ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জ-৩ (সদর-সাটুরিয়া) আসনে ৫৫ বছরের ইতিহাসে প্রথম নারী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়ার পরপরই বড় চমক দেখালেন আফরোজা খানম রিতা। পিতার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই তিনি স্থান করে নিয়েছেন নতুন সরকারের পূর্ণ মন্ত্রীর তালিকায়। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারে তাকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রয়াত মন্ত্রী ও শিল্পপতি হারুনার রশীদ খান মুন্নুর কন্যা রিতা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ সাঈদ নূর পান ৬৪ হাজার ২৪২ ভোট। ১ লাখ ৩ হাজার ১০৩ ভোটের বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে তিনি নারী প্রার্থীদের মধ্যে জয়ের ব্যবধানে সারা দেশে রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন। স্থানীয়রা বলছেন, পিতার ছায়া ছাপিয়ে নিজের যোগ্যতৃতেই তিনি মানিকগঞ্জের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায় রচনা করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত ১৬ বছর ধরে রাজপথে সক্রিয় থাকা, মামলা-হামলায় জর্জরিত কর্মীদের পাশে দাঁড়ানো এবং চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত রাখার পুরস্কার হিসেবেই তিনি এই মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মুন্নু গ্রুপের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ নানা প্রশাসনিক হয়রানি করা হলেও তিনি দমে যাননি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর আফরোজা খানম বর্তমানে মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান এবং বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য।
পারিবারিক জীবনেও তিনি সফল। তার স্বামী মইনুল ইসলাম মুন্নু গ্রুপের ভাইস-চেয়ারম্যান। তার তিন ছেলে—মাইমুনুল ইসলাম অন্তু, রাশীদ সামিউল ইসলাম অর্ক এবং রাশীদ রাফিউল ইসলাম অর্নব—লন্ডনের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে পারিবারিক ব্যবসার হাল ধরেছেন। পিতার হাত ধরে ২০০১ সালে রাজনীতিতে আসা রিতা ধাপে ধাপে জেলা ও কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান পোক্ত করেছেন। তার এই অর্জনে মানিকগঞ্জের নেতাকর্মীদের মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ