তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় বাদ পড়লেন বিএনপির একঝাঁক প্রবীণ নেতা

তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় বাদ পড়লেন বিএনপির একঝাঁক প্রবীণ নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভায় এক বড় ধরনের চমক দেখা গেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ে সামনের সারিতে থাকা এবং অতীতে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করা বিএনপির অনেক প্রবীণ ও জ্যেষ্ঠ নেতা এবার মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি। অভিজ্ঞ এসব নেতাকে ছাড়াই ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর একটি গতিশীল মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ গ্রহণের পর যখন দপ্তরের তালিকা সামনে আসে, তখন অনেক হেভিওয়েট নেতার নাম অনুপস্থিত দেখে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার সৃষ্টি হয়।

মন্ত্রিসভায় জায়গা না পাওয়া নেতাদের মধ্যে অন্যতম হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি এর আগে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এছাড়া ঢাকার রাজনীতির প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ও সাবেক গণপূর্ত মন্ত্রী মির্জা আব্বাস এবং দলের দীর্ঘদিনের নীতিনির্ধারক ও সাবেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খানও এবারের তালিকায় নেই।

তালিকায় আরও দেখা যায়নি সাবেক পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সাবেক সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী সেলিমা রহমান এবং সাবেক স্বাস্থ্য ও শ্রম প্রতিমন্ত্রী আমানউল্লাহ আমানকে। বিশেষ করে গত দেড় দশকে রাজপথে সক্রিয় এবং দলের মুখপাত্র হিসেবে আপসহীন ভূমিকা পালন করা জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং অভিজ্ঞ নেতা নজরুল ইসলাম খানের মন্ত্রিসভায় অনুপস্থিতি তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমান তাঁর নতুন মন্ত্রিসভায় 'অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সংমিশ্রণ' ঘটাতে চেয়েছেন। বিশেষ করে ক্লিন ইমেজের তরুণ নেতাদের সুযোগ দিয়ে প্রশাসনে নতুন গতি আনার লক্ষ্যেই এই সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তবে বাদ পড়া প্রবীণ নেতাদের অভিজ্ঞতায় বঞ্চিত হওয়া এড়াতে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির প্রধান অথবা উপদেষ্টা হিসেবে কাজে লাগানো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, "দল ও সরকার আলাদা রাখা" এবং তরুণদের মধ্যে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটানোর অংশ হিসেবেই এই রদবদল। তবে প্রবীণ নেতাদের এই অনুপস্থিতি সরকারের নীতিনির্ধারণে কোনো প্রভাব ফেলে কি না, তা দেখার বিষয়।

মন্তব্য করুন