ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
(ফাইল ছবি) পুলিশি হেফাজতে ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের গ্রেপ্তারকৃত ১২ সদস্য।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভুয়া পরিচয়ে সখ্য গড়ে তোলার পর দেখা করার কথা বলে বাসায় ডেকে নিয়ে জিম্মি করা হতো। এরপর আপত্তিকর ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল ও মারধর করে আদায় করা হতো মোটা অঙ্কের টাকা। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা এলাকায় এমনই এক ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। রোববার ও সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই চক্রের দুই নারীসহ মোট ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—তুলিয়া আক্তার সুমি, দুলালী ওরফে মীম, ওমর ফারুক, শফিকুল ইসলাম শান্ত, সজল তালুকদার, মো. ইয়াছিন, নাছির খান, সাদ্দাম, মেহেদী হাসান শাহরিয়া, আজিজুল হাকিম টুটুল, কামরুল ইসলাম ও মো. রাব্বি।
পুলিশ জানায়, চক্রটির মূল কৌশল ছিল ফেসবুকে প্রেমের ফাঁদ পাতা। গত ১৫ ডিসেম্বর এক ভুক্তভোগী ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে তুলিয়া আক্তার সুমির সঙ্গে দেখা করতে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় যান। সেখান থেকে তাকে কৌশলে একটি বাসায় নিয়ে গিয়ে আটকে রাখা হয় এবং মারধর করে ৮ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। প্রাণের ভয়ে ভুক্তভোগী নগদ টাকা, স্বর্ণের আংটি ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা দিয়ে ছাড়া পান। অন্যদিকে, গত ১১ জানুয়ারি ভোরে সায়েদাবাদ জনপদ মোড় থেকে দুই ব্যক্তিকে অপহরণ করে মাতুয়াইল কবরস্থান রোডের একটি বাসায় নিয়ে যায় চক্রটি। সেখানে অজ্ঞাতনামা নারীদের সঙ্গে তাদের আপত্তিকর ছবি তুলে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা, হ হীরার আংটি ও এটিএম কার্ডের মাধ্যমে ৫ লাখ ৩১ হাজার ৫০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।
পৃথক দুটি মামলার তদন্তে নেমে যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা থানা পুলিশ তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় নিশ্চিত হয় যে, দুটি ঘটনার সঙ্গেই একই চক্র জড়িত। এরপরই ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছে যে, তারা দীর্ঘ দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিত্তবানদের টার্গেট করে এবং কৌশলে ফাঁদে ফেলে সর্বস্ব লুটে নিত। এ ঘটনায় জড়িত বাকিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ