নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের কর-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের নিচে নেমে আসার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার (১১ মে) রাজধানীর হোটেল শেরাটনে বণিক বার্তা আয়োজিত ‘সোনার বাংলা নীতি আলোচনা’-এর প্রথম অধিবেশনে মূল বক্তব্যে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী বলেন, “এক সময় আমাদের কর-জিডিপি অনুপাত ১০-১১ শতাংশ থাকলেও বর্তমানে তা ৭ শতাংশের নিচে। এটি দক্ষিণ এশিয়া তো বটেই, বিশ্বেরও অন্যতম সর্বনিম্ন। কর আদায় না বাড়লে সরকারের উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়নের সক্ষমতা কমে যায়, যার প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর।” এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নীতি ও রাজস্ব বিভাগকে আলাদা করার সংস্কার কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ইঙ্গিত দেন তিনি।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আগামী ৫ বছরের মধ্যে রেমিট্যান্স আয় ৪০-৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “বর্তমানে অদক্ষ কর্মী পাঠানোর ফলে আমরা প্রত্যাশিত রেমিট্যান্স পাচ্ছি না। দক্ষ কর্মী পাঠাতে পারলে অর্ধেক জনবল দিয়েই দ্বিগুণ আয় সম্ভব।” এ লক্ষ্যে কারিগরি শিক্ষায় আন্তর্জাতিক মানের ‘অ্যাক্রেডিটেশন ও সার্টিফিকেশন’ বাধ্যতামূলক করার কথা জানান তিনি।
জনমিতিক সুবিধা (Demographic Dividend) কাজে লাগাতে আগামী ৪-৫ বছরের মধ্যে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ ৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দেন মন্ত্রী। এছাড়া উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও অপচয় রোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “বর্তমানে ১ হাজার ৩০০টি প্রকল্প পর্যালোচনা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া জনস্বার্থহীন কোনো প্রকল্প রাখা হবে না।”
এখন থেকে প্রতিটি প্রকল্পের ক্ষেত্রে নিশ্চিত আয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পরিবেশ রক্ষা ও সামাজিক প্রভাব—এই চারটি মানদণ্ড পূরণ করা বাধ্যতামূলক বলে ঘোষণা করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী।