মদনে অকাল বন্যার কবলে কৃষকের স্বপ্ন

মদনে অকাল বন্যার কবলে কৃষকের স্বপ্ন

মোঃ সাকের খান, মদন (নেত্রকোণা): নেত্রকোণার মদন উপজেলায় বোরো ধান কাটার মৌসুমে অকাল বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাওরের কৃষকরা। কয়েক শত একর জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক কৃষক এখন পাম্প বসিয়ে পানি নিষ্কাশনের আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন।

উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের দেওসহিলা তলার হাওরে গিয়ে দেখা যায় এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। কৃষক জয়কুল ইসলাম জানান, তাঁর ৫ একর জমির মধ্যে ৩ একরই ডুবে গেছে। অবশিষ্ট ফসল রক্ষায় ১৬টি শ্যালু মেশিন দিয়ে গত ১৩ দিন ধরে দিনরাত পানি সরানোর কাজ করছেন স্থানীয় কৃষকরা। তবে ডিজেলের উচ্চমূল্যের কারণে এই লড়াই চালিয়ে যাওয়া তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

কৃষকদের অভিযোগ, হাওরে পানি জমে থাকায় আধুনিক হারভেস্টার মেশিন চালানো যাচ্ছে না। ফলে কাঁচি দিয়ে ধান কাটার জন্য শ্রমিকের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কিন্তু চাহিদা বাড়ায় এক জন শ্রমিকের মজুরি ১২০০ টাকা দিয়েও লোক পাওয়া যাচ্ছে না। তিয়শ্রী ইউনিয়নের কৃষক রঞ্জন মিয়া জানান, জলাবদ্ধতার কারণে তাঁর দুই একর জমিতে তিনি কাঁচিই ছোঁয়াতে পারেননি।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার মদনে ১৭ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। সরকারি হিসেবে অকাল বন্যা ও শিলাবৃষ্টিতে ২৩২ হেক্টর জমির ক্ষতি হয়েছে। তবে কৃষকদের দাবি, বাস্তবে ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি। উপজেলা কৃষি অফিসার মো: মাহমুদুল হাসান মিজান জানান, নিচু এলাকার ৭৫ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে, আবহাওয়া ভালো থাকলে বাকিটুকু দ্রুত সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেদবতী মিস্ত্রী জানান, মগড়া নদীর পানি বৃদ্ধি এবং বৃষ্টির কারণে কিছু জমিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। কৃষকদের পাম্প দিয়ে পানি সরানোর বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং কৃষি অফিসারকে ঘটনাস্থলে পাঠাবেন। তবে কৃষকদের সরকারি সহযোগিতার বিষয়ে এখনও কোনো নির্দেশনা আসেনি বলে তিনি জানান।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন