ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
তাজুল ইসলাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় হাসনা হেনা (২১) নামে এক সন্তানের জননী ও গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। ঘটনাটি হত্যা না কি আত্মহত্যা—তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হওয়ায় পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ (দিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
নিহতের বাবা ও মামলার বাদী আব্দুল হামিদ জানান, প্রায় ৩ বছর আগে ৪নং শহরগ্রাম ইউনিয়নের ওকড়া মাঝাপাড়া গ্রামের আবুল কালাম আজাদের ছেলে জসিম উদ্দিনের (২৬) সাথে হাসনা হেনার বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে দেড় বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। অভাব-অনটনের কারণে প্রায়ই সংসারে কলহ লেগে থাকত।
বুধবার (১১ মার্চ ২০২৬) রাত পৌনে ৩টার দিকে প্রতিবেশীর মাধ্যমে আব্দুল হামিদ জানতে পারেন, তাঁর মেয়ে ওড়না দিয়ে ঘরের দরজার লিনটনের সাথে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। স্বজনরা খবর পাওয়ার আগেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন মরদেহ ফাঁসের ওড়না কেটে বারান্দায় শুইয়ে রাখেন।
বাদী আব্দুল হামিদ তাঁর এজাহারে উল্লেখ করেছেন, হাসনা হেনার গলার কন্ঠনালিতে কালচে দাগ ছাড়াও গলার ডান পাশে চোয়ালের নিচে লালচে স্পট এবং সেখানে গভীর ছেঁড়া-ফাটা দাগ রয়েছে। ঘটনার পর থেকেই নিহতের স্বামী জসিম উদ্দিন পলাতক রয়েছেন, যা মৃত্যু নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত করেছে। নিহতের বাবার দাবি, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে।
বিরল থানা পুলিশ জানায়, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে বিরল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পলাতক স্বামী জসিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
বর্তমানে এলাকায় এ নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা এই রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ