টেকনাফে সূর্যমুখী চাষে সাফল্য: মুখে হাসি ফুটেছে উপকূলীয় কৃষকদের

টেকনাফে সূর্যমুখী চাষে সাফল্য: মুখে হাসি ফুটেছে উপকূলীয় কৃষকদের

জিয়াবুল হক, টেকনাফ: কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে এখন হলুদের সমারোহ। অন্য সব ফসলের পাশাপাশি সূর্যমুখী চাষে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। সূর্যমুখীর বীজ থেকে উৎপাদিত বিশুদ্ধ তেলের ভালো দাম পাওয়ায় এই চাষাবাদে আগ্রহ বাড়ছে টেকনাফের প্রান্তিক চাষিদের মাঝে।

টেকনাফ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে টেকনাফ সদর, সাবরাং, হ্নীলা, হোয়াইক্যং এবং বাহারছড়া ইউনিয়নের প্রায় ৫ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। জানুয়ারি মাসে বীজ বপন করার পর ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে বা মার্চ মাসে ফসল ঘরে তোলার উপযুক্ত সময়। মূলত মরিচ, আলু ও শিমের পাশাপাশি বাড়তি আয়ের পথ হিসেবে কৃষকেরা সূর্যমুখীকে বেছে নিয়েছেন।

টেকনাফ সদর ইউনিয়নের লম্বরী এলাকার কৃষক জাহাঙ্গীর বলেন: "আমি ৪০ শতক জমিতে সূর্যমুখী আবাদ করেছি। কৃষি অফিস থেকে বীজ, সার ও পরামর্শ পাচ্ছি। ১ কেজি সূর্যমুখী তেল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি করা যাচ্ছে। তবে এলাকায় বীজ থেকে তেল বের করার আধুনিক মেশিন না থাকায় আমাদের কিছুটা কষ্ট হচ্ছে। এই সুবিধা থাকলে চাষাবাদ আরও বাড়ত।"

অন্যদিকে হোয়াইক্যংয়ের কৃষক মমতাজ আহমেদ জানান, অন্য ফসলের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো সূর্যমুখী চাষ করে তিনি সফলতার মুখ দেখছেন। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শ তাঁকে উৎসাহ জোগাচ্ছে।

টেকনাফ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, টেকনাফ অঞ্চলের মাটি ও জলবায়ু সূর্যমুখী চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষকেরা যাতে আরও উদ্বুদ্ধ হয় সেজন্য আমরা কারিগরি ও উপকরণ সহযোগিতা দিচ্ছি।

তিনি আরও যোগ করেন: "কৃষকদের দীর্ঘদিনের চাহিদা বিবেচনা করে এখানে তেল উৎপাদনের জন্য একটি আধুনিক মেশিন স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের আছে। আগামীতে অনাবাদি জমিগুলোতে ব্যাপকভাবে সূর্যমুখী চাষ ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।"

বর্তমানে টেকনাফের বিভিন্ন গ্রামে সূর্যমুখী বাগানগুলো পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, যা স্থানীয় পর্যটন ও কৃষিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

জে.এইচ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন