জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের জীবন্ত দলিল: সংস্কৃতিমন্ত্রী
ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরকে বাংলাদেশের সার্বিক গণতান্ত্রিক মুক্তি সংগ্রাগ, রাজপথের আত্মত্যাগ ও অন্যায়-ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের এক অবিনাশী 'জীবন্ত দলিল' হিসেবে অভিহিত করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ইতিহাসে গণমানুষের কোনো ত্যাগ বা ন্যায়সংগত সংগ্রাম কখনো ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয় না। সত্য ইতিহাসকে চাইলেই কেউ কোনোদিন মুছে দিতে পারে না। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানই এর সবচেয়ে জ্বলন্ত ও উজ্জ্বল বাস্তবতা।”
আজ বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর বর্ণাঢ্য শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতির গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদানকালে সংস্কৃতিমন্ত্রী এসব কথা তুলে ধরেন।
বক্তব্যে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, “প্রায় দীর্ঘ দুই দশক ধরে সাধারণ জনগণের ওপর চেপে বসা স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকামী মানুষের দীর্ঘস্থায়ী লড়াইয়ের চরম চূড়ান্ত রূপ ছিল এই জুলাই গণঅভ্যুত্থান। রাজপথে আন্দোলন করতে গিয়ে যেসব অকুতোভয় ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছেন কিংবা চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাদের এই মহান আত্মত্যাগ স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।”
তিনি আরও বিশ্লেষণ করে বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গভীরতা ও ব্যাপ্তি পর্যালোচনার মাধ্যমে আমরা অনুধাবন করতে পারি, কীভাবে গণতন্ত্রের মুখোশ পরে একটি রাষ্ট্রকাঠামো তার সর্বস্তরের সাংবিধানিক ও আইনি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে নাগরিকদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছিল। সেই কলঙ্কিত ইতিহাস ও রক্তঝরা সংগ্রামের স্মৃতি অনাগত ভবিষ্যতের কাছে বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরতেই এই স্মৃতি জাদুঘরটি স্থাপন করা হলো। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সূচনা হলেও বর্তমান সরকার প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে একে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় প্রতিষ্ঠানে রূপ দিয়েছে।”
সংস্কৃতিমন্ত্রী জানান, কেবল স্মারক প্রদর্শনের মধ্যেই জাদুঘরের কাজ সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এখানে নিয়মিত ঐতিহাসিক গবেষণা ও দলিল সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। এর ফলে আগামী প্রজন্ম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের চেতনা ও মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে জানতে পারবে।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ছাত্র-জনতার গণজাগরণ মাত্র ২০ দিনের টানা উত্তাল আন্দোলনে এক শক্তিশালী ফ্যাসিবাদী কাঠামোর ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল। ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্টের মধ্যেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছিল স্বৈরাচারের অহংকার, যার জীবন্ত সাক্ষী হয়ে থাকবে এই জাদুঘর।