ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: সরকারের চলমান বৃহৎ সামাজিক ও অবকাঠামোগত কর্মসূচিগুলোর মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং খাল খনন প্রকল্প। এসব প্রকল্পের খরচ বহনের চাপ পড়ছে রাজস্ব খাতের ওপর। এই বিশাল ব্যয়ভার সামাল দিতে মেগাপ্রকল্পে অপচয় কমানো, উন্নয়ন বাজেটে কাটছাঁট এবং রাজস্ব আহরণে জোর দিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একই সঙ্গে করজাল সম্প্রসারণে তৈরি করা হচ্ছে হিটম্যাপ।
গত ১৬ মার্চ দিনাজপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে খাল খনন প্রকল্প শুরু করেছে সরকার। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) হিসাব অনুযায়ী ৩০ ফিট চওড়া আর ১০ ফিট গভীর একটি খাল খননে লাগে ২ কোটি টাকার মতো। এই হিসেবে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননে লাগতে পারে ৫ হাজার কোটি টাকার কম বেশি। সম্ভাব্য খরচের তালিকায় সরকারের আরেক জনপ্রিয় উদ্যোগ ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প। দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারকে এই সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনতে ব্যয় হতে পারে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার মতো। জরুরি তবে ব্যয়বহুল আরেক প্রকল্প কৃষক কার্ড, যার ডাটাবেজ আর কার্ড তৈরিতেই ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৮১ কোটি টাকা।
এই বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থের জোগান কোথা থেকে আসবে, সে হিসাব মেলাচ্ছে অর্থ ও পরিকল্পনা বিভাগ। এতে বড় বড় প্রকল্পে অপচয় রোধ এবং উন্নয়ন বাজেটে কাটছাঁটের পথে হাঁটছে সরকার। একই সঙ্গে কর ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। এনবিআর সদস্য ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, ‘শর্টটাইম এটাকে কর জিডিপির হার ১০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। এটি একটি টার্গেট আমাদের দেওয়া হয়েছে। কীভাবে আমরা করব সে কর্মসূচি আমরা গ্রহণ করছি। বেশ কিছু জায়গা আমরা চিহ্নিত করেছি। আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি করের নেট বাড়িয়ে এবং কর হার যৌক্তিকীকরণ করে আমরা এগিয়ে যেতে পারি।’
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘এই মুহূর্তে সরকারের এক ধরনের রাজস্ব সংকট রয়েছে। তাই যৌক্তিকভাবে ব্যয়েরও প্রশ্ন দাঁড়ায়। যদিও সামাজিক খাতে ব্যয়ের একটা প্রাধিকার রয়েছে। তবে এর মানে এই না যে সরকারের এই ধরনের রাজস্বের উৎস নেই। সিপিডির একটি গবেষণায় আমরা দেখেছি যে সরকার প্রতিবছর করফাঁকি বা কর এড়িয়ে যাওয়া অথবা করজালের বাইরে থাকার জন্য ২০২১ সালের হিসাবে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার মতো অর্থ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’ তবে বাস্তবতা তুলে ধরছে ভিন্ন চিত্র। চার দফায় সময়সীমা বাড়িয়েও রিটার্ন দাখিলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। গত বছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে এনবিআর প্রায় ৭১ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতিতে রয়েছে।
আই.এ/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ