ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
মাসুম বিল্লাহ, বাগেরহাট: বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা ইউনিয়নে প্রভাবশালী মহলের জোরপূর্বক লবণ পানি প্রবেশের ফলে প্রায় ১৬ হাজার বিঘা (৮ হাজার একর) জমির বোরো ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
সোনালী ফসল রক্ষায় শনিবার (৪ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন কয়েকশ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক।
কৃষকদের অভিযোগ, এলাকায় মাছ চাষের জন্য স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বিভিন্ন স্লুইস গেট ও খালের মুখ দিয়ে লোনা পানি প্রবেশ করাচ্ছেন। এতে ধানের শীষ আসার মুহূর্তে লবণাক্ততার কারণে গাছ মরে যাচ্ছে। চাষিদের দাবি, আগামী এক মাসের মধ্যেই ধান ঘরে তোলার কথা ছিল, কিন্তু এই অসময়ে লবণ পানি প্রবেশ করালে অন্তত ৮ হাজার একর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে।
মানববন্ধন শেষে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য বিল্লাল হোসেন অপু, স্থানীয় কৃষক এম আরাফাত হোসেন, ফজলে রাব্বি, নাজুম হাসান, গোলাম মৌওলা ও রবিউল ইসলাম প্রমুখ।
বিল্লাল হোসেন অপু বলেন, "ডেমা ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু হাতেগোনা কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি চিংড়ি চাষের লোভে লবণ পানি ঢোকাচ্ছেন। এতে হাজার হাজার কৃষকের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হতে চলেছে। আমরা অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।"
কৃষক আরাফাত হোসেন জানান, "প্রতি বিঘা ধান চাষে ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। যারা লিজ নিয়ে চাষ করেছেন, তাদের খরচ আরও বেশি। এখন পানি ঢুকলে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।"
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে বাগেরহাট জেলায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৭১ একর জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ডেমা ইউনিয়নের বিশাল একটি অংশ এখন লবণ পানির হুমকির মুখে।
কৃষকরা অতিদ্রুত স্লুইস গেটগুলো বন্ধ করে লবণ পানি প্রবেশ ঠেকানোর জন্য জেলা প্রশাসক ও কৃষি বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
এ.আই.এল/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ