ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
ওয়াফিক শিপলু, বগুড়া: আগামী ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনকে ঘিরে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। সময় যত ঘনিয়ে আসছে, প্রার্থীদের ব্যস্ততা ততই বাড়ছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। পাড়া-মহল্লা, হাট-বাজার এবং সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে চলছে গণসংযোগ ও কুশল বিনিময়।
এই উপনির্বাচনে মূলত ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন:
রেজাউল করিম বাদশা: বিএনপি মনোনীত প্রার্থী (প্রতীক: ধানের শীষ)।
অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান সোহেল: জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী (প্রতীক: দাঁড়িপাল্লা)।
আল আমিন তালুকদার: বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি-বিডিপি মনোনীত প্রার্থী (প্রতীক: ফুলকপি)।
নির্বাচনী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা প্রচারণায় ব্যাপক সক্রিয়। পোস্টার, লিফলেট এবং মাইকিংয়ে ছেয়ে গেছে শহর ও গ্রাম। তবে সেই তুলনায় বিডিপি প্রার্থীর প্রচারণা কিছুটা স্তিমিত বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। প্রার্থীরা সড়ক উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন।
সাধারণ ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। শহরের নামাজগড় এলাকার বাসিন্দা আব্দুল লতিফ জানান, প্রার্থীরা ভোট চাইলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোটের তারিখ নিয়ে কিছুটা অস্পষ্টতা আছে। চেলোপাড়া এলাকার চা বিক্রেতা আবু হানিফ বলেন, "শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকলে সবাই ভোট দিতে যাবে।" তবে অনেক ভোটার এখনো প্রার্থীর সরাসরি দেখা পাননি বলে জানিয়েছেন।
বিএনপি প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা বলেন, "বগুড়ার মানুষের প্রত্যাশা অনেক। নির্বাচিত হলে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করব।"
অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান সোহেল বলেন, "বগুড়ার মানুষ পরিবর্তন চায়। আমরা প্রশাসনের কাছে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।"
বগুড়া জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ ৫৪ হাজার ৪০ জন। এর মধ্যে নারী ভোটারের সংখ্যা পুরুষ ভোটারের চেয়ে কিছুটা বেশি। মোট ১৫০টি কেন্দ্রের ৮৫৫টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, স্বচ্ছতা নিশ্চিতে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও র্যাবের পাশাপাশি পর্যাপ্ত বাহিনী মোতায়েন থাকবে।
শেষ মুহূর্তের এই নীরব প্রতিযোগিতায় কার গলায় বিজয়ের মালা ওঠে, তা দেখতে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বগুড়াবাসীকে।
এ.আই.এল/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ