শুরু হয়েছে পবিত্র রমজান মাস। তবে ইফতারের প্রধান অনুষঙ্গ খেজুরের বাজার নিয়ে সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। সরকার বড় ধরনের শুল্ক ছাড় ও এলসি মার্জিন সুবিধার ঘোষণা দিলেও বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। বরং সিন্ডিকেটের কারসাজিতে খেজুরের দাম কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) খেজুর আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ১৫ শতাংশ এবং আগাম আয়কর ৫ শতাংশে নামিয়েছে। এই ছাড়ে প্রতি কেজি খেজুরের দাম অন্তত ৬০ থেকে ৮০ টাকা কমার কথা থাকলেও রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও মৌলভীবাজারের পাইকারি আড়তে তার সুফল মিলছে না। অভিযোগ রয়েছে, সুবিধা আমদানিকারক ও পাইকারদের কাছেই থেকে যাচ্ছে।
বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, নিম্ন আয়ের মানুষের ভরসা ‘জাহেদি’ বা সাধারণ বস্তা খেজুরও এখন নাগালের বাইরে। গত ১০ দিনে ১০ কেজির কার্টনের দাম ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৫০০ টাকায় পৌঁছেছে। উন্নত মানের মরিয়ম, মাবরুম ও মেডজুল খেজুরের দামও বেড়েছে, যা মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।
আমদানিকারকদের দাবি, শুল্ক কমলেও বন্দরে কাস্টমস অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু বা ট্যারিফ মূল্য বেশি ধরা হচ্ছে, ফলে প্রত্যাশিত সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বাজারে খেজুরের কোনো সংকট নেই। রমজানকে কেন্দ্র করে অসাধু ব্যবসায়ীরা পণ্য মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন।
ক্রেতারা বলছেন, দাম না কমলে তাদের দুর্ভোগ কমবে না। বিক্রেতারা জানান, আগে যে খেজুর ১৫০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা কিনতেই ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা লাগছে, ফলে বিক্রির দামও বেড়েছে।
রমজানের বাজার স্থিতিশীল রাখতে আমদানির তথ্যে দেখা যায়, দেশে পর্যাপ্ত মজুত থাকায় ডাল, চিনি, পেঁয়াজ ও রসুনের আমদানি ১১ থেকে ৯৩ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। অন্যদিকে, চাহিদার তুলনায় ১ থেকে ৩৬ শতাংশ বেশি আমদানি হয়েছে আদা, ছোলা ও ভোজ্যতেল। ইতোমধ্যে বাজারে ১৯২ শতাংশ বেশি খেজুর প্রবেশ করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ডাল, চিনি, ছোলা ও তেলসহ রমজানের প্রয়োজনীয় পণ্যে সরবরাহ ঘাটতি নেই। মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, পর্যাপ্ত পণ্য আমদানি ও মজুত রয়েছে। আমদানিকারকেরা সঠিকভাবে সরবরাহ করলে কোনো ঘাটতি থাকবে না।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের অনুরোধে খেজুর আমদানিতে শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। অগ্রিম আয়কর ১০ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশে নামানো হয়েছে এবং আগাম করের ৫ শতাংশ পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে। এরপরও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্থিতিশীল করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, সরকার পরিস্থিতি নজরে রাখছে। কেউ সিন্ডিকেট করে বাজার অস্থির করার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে এবং প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত টিম তৎপর থাকবে। ক্রেতারা প্রতিযোগিতা কমিশন ও ভোক্তা অধিকারসহ সংশ্লিষ্ট দফতরে অভিযোগ জানাতে পারবেন।
আই.এ/সকালবেলা