সারের বস্তায় সাড়ে ৯ কেজি কম, জনতার তোপের মুখে ডিলার

সারের বস্তায় সাড়ে ৯ কেজি কম, জনতার তোপের মুখে ডিলার

মো. আমিনুল ইসলাম, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে বিসিআইসি সার ডিলারের গুদামে ৫০ কেজির ইউরিয়া সারের বস্তায় মাত্র ৪০ কেজি ৫০০ গ্রাম সার পাওয়ায় জনরোষের মুখে পড়েছেন ডিলার। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে মোরেলগঞ্জ পৌর শহরের জয়াগুরু ভাণ্ডার নামে একটি ডিলার পয়েন্টে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। পরে কৃষি কর্মকর্তাদের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে জয়াগুরু ভাণ্ডারের ডিলার বিমল কৃষ্ণ রায়ের দোকান থেকে লঞ্জঘাট এলাকার খুচরা বিক্রেতা কামরুজ্জামান শেখ ১৩৫০ টাকায় এক বস্তা ইউরিয়া সার ক্রয় করেন। বস্তাটি ওজনে কম মনে হলে পুনরায় মাপ দেওয়ার পর দেখা যায় ৫০ কেজির স্থলে সেখানে মাত্র ৪০ কেজি ৫০০ গ্রাম সার রয়েছে। অর্থাৎ একটি বস্তাতেই ৯ কেজি ৫০০ গ্রাম সার কম।

এই খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ডিলারের দোকানে ভিড় করে প্রতিবাদ জানাতে থাকে। তোপের মুখে পড়েন ডিলারের ছোট ভাই নকুল কুমার সাহা। খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা কৃষি অফিসের তিন সদস্যের একটি তদন্ত দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা ওই গুদামের আরও বেশ কিছু বস্তা ওজন করে সেগুলোতেও ৪২ থেকে ৪৫ কেজি করে সার পান। পরে পাশের ‘ভ্যারাইটি স্টোর’ নামের অপর এক ডিলার আব্দুল ওহাব বেপারীর গুদামেও তল্লাশি চালিয়ে ১৬টি বস্তায় ওজন কম পাওয়া যায়।

অভিযুক্ত ডিলার নকুল কুমার সাহা দাবি করেন, “আমরা ব্যক্তিগতভাবে সার কম দেইনি। এবার বরাদ্দকৃত সারের বস্তাগুলোতে ওপর থেকেই ওজন কম আসছে। বিষয়টি আমরা কৃষি অফিসকে আগে জানিয়েছিলাম।” অপর ডিলার ওহাব বেপারীও একই দাবি করে জানান, ওজন কম হওয়ায় তিনি ১৬টি বস্তা আলাদা করে রেখেছিলেন।

তদন্ত টিমের প্রধান ও কৃষি অফিসের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা ডাল্টন রায় উপস্থিত জনতাকে আশ্বস্ত করে বলেন, “এখন থেকে প্রতি বস্তা সার কৃষকদের সামনে ওজন করে বিক্রি করতে হবে। বস্তায় যতটুকু সার কম থাকবে, ডিলার সেই অনুপাতে টাকা কম রাখবেন। ইউনিয়ন পর্যায়ের ডিলারদের বিরুদ্ধেও এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন