যথাযোগ্য মর্যাদায় হাজংমাতা রাশিমণির ৮০তম প্রয়াণ দিবস পালিত

যথাযোগ্য মর্যাদায় হাজংমাতা রাশিমণির ৮০তম প্রয়াণ দিবস পালিত

দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন তথা টংক আন্দোলনের অন্যতম নারী বিপ্লবী, হাজংমাতা কমরেড রাশিমণির ৮০তম প্রয়াণ দিবস শনিবার (৩১ জানুয়ারি) যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি, বিভিন্ন হাজং সংগঠন এবং বাংলাদেশ আদিবাসী ইউনিয়ন দুর্গাপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

সকালে দুর্গাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী কুল্লাগড়া ইউনিয়নের বহেরাতলী গ্রামে অবস্থিত হাজংমাতা রাশিমণি স্মৃতি সৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করা হয়। পরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমির নৃত্য শিক্ষিকা মালা মার্থা আরেং-এর সঞ্চালনায় এবং একাডেমির পরিচালক কবি পরাগ রিছিলের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অ্যাডভোকেট এম এ জিন্নাহ, আদিবাসী লেখক ও গবেষক মতিলাল হাজং, জাতীয় হাজং সংগঠনের সভাপতি পল্টন হাজং, বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব হোসেন তালুকদার, দুর্গাপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. মোহন মিয়া, কবি সজিম সাইন, হাজং নেতা ছড়ানন হাজং, অন্তর হাজং ও হীরা হাজং প্রমুখ।

আলোচনা শেষে হাজং সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী তাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও কৃষ্টি তুলে ধরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে।

অপরদিকে, একই দিনে আদিবাসী ইউনিয়ন  দুর্গাপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে পৃথক কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে আদিবাসী ইউনিয়ন উপজেলা কমিটির সভাপতি অবনী কান্ত হাজং সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বিশিষ্ট চিকিৎসক জননেতা কমরেড ডা. দিবালোক সিংহ।

আরো বক্তব্য রাখেন সিপিবি দুর্গাপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি আলকাছ উদ্দিন মীর, সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম, উপজেলা উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সভাপতি শামছুল আলম খান সহ আরো অনেকেই। 

বক্তারা বলেন, ১৯৩৭ সালের দিকে রাশিমণি হাজং টংক আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন এবং স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন টংক আন্দোলনের অন্যতম বিপ্লবী নেতা এবং কৃষক সমিতির একজন সাহসী জঙ্গি কর্মী। রাশিমণির সাহসিকতায় অনুপ্রাণিত হয়ে হাজং নারীরা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন এবং নারী-পুরুষের সম্মিলিত ঐক্যে টংক আন্দোলন ব্রিটিশ শাসকদের জন্য ভয়ংকর হয়ে ওঠে।

একজন নারীর সম্ভ্রম রক্ষায় নিজের জীবন উৎসর্গ করে রাশিমণি হাজং ইতিহাসে অবিস্মরণীয় হয়ে আছেন। তিনি টংক আন্দোলনের প্রথম নারী শহীদ। নিঃসন্তান হয়েও তিনি আজ ‘হাজংমাতা’ হিসেবে পরিচিত এবং হাজং-বাঙালি নির্বিশেষে সকলের কাছে শ্রদ্ধেয়।

বক্তারা আরও বলেন, হাজংমাতা রাশিমণি শুধু গাড়ো পাহাড়ের পাদদেশেই নয়, সমগ্র নারী সংগ্রামের প্রেরণার উৎস। তাঁর জীবনাদর্শ নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরতে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।

আই.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন