স্বৈরাচারের সঙ্গে মিশে থাকা ‘গুপ্ত’ চক্র থেকে সজাগ থাকুন: তারেক রহমান

স্বৈরাচারের সঙ্গে মিশে থাকা ‘গুপ্ত’ চক্র থেকে সজাগ থাকুন: তারেক রহমান

বিগত ১৬ বছর যারা তলে তলে স্বৈরাচারের সঙ্গে মিশে ছিল, সেই ‘গুপ্ত’ ষড়যন্ত্রকারী চক্র থেকে দেশবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা দীর্ঘ সময় স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে কাজ করেছে, তারা এখন ভিন্ন বেশে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এদের রুখে দিতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পাইকপাড়ায় বিসিক শিল্প পার্কে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, “আপনাদেরকে অনেকেই এসে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে। যারা বিভ্রান্তিমূলক কথা ছড়াবে তাদের একটাই নাম, তারা হচ্ছে ‘গুপ্ত’। কারণ, তাদের গত ১৬ বছর আমরা রাজপথে দেখি নাই। তারা তলে তলে তাদের সঙ্গে মিশে ছিল, যারা ৫ আগস্ট পালিয়ে গিয়েছে। এই চক্রটি যেন আমাদের ভাই-বোনদের আত্মত্যাগের অধিকার স্তব্ধ করতে না পারে, সে জন্য আপনাদের সজাগ থাকতে হবে।” 

বক্তব্যের শুরুতেই তিনি ভোট ডাকাতির প্রতিবাদ করতে গিয়ে দৃষ্টিশক্তি হারানো মেরি এবং গত দেড় দশকে গুম-খুনের শিকার পরিবারগুলোর ত্যাগের কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচারের পতন হয়েছে, এখন সময় দেশ গড়ার। ৭১ সালে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি, ২০২৪ সালে সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছি। এখন আমাদের সেই স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তুলতে হবে।’

জনসভায় তারেক রহমান দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে বিএনপির ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেন। 

তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে গৃহিণীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ সব ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়াও সিরাজগঞ্জ ও পাবনা অঞ্চলকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গজুড়ে কৃষিভিত্তিক শিল্প পার্ক গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা একমাত্র বিএনপিরই আছে। আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি এবং সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে একসঙ্গে দেশ গড়তে চাই। আসুন সবাই মিলে শপথ নিই: করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’

বিকেল থেকেই সিরাজগঞ্জ ও পাবনার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে জনসভাটি এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

আই.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন