কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি: গ্রীষ্মের তীব্র গরমে একটু স্বস্তি ও রসালো স্বাদ নিতে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের তালের শাঁসের দোকানগুলোতে পথচারীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মৌসুম শুরু হতেই কোটচাঁদপুরের বিভিন্ন সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ভ্রাম্যমাণ তালের শাঁসের দোকান। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে আস্ত একটি তাল ৩০ টাকা এবং তালের শাঁসের প্রতি পিস বা আঁটি ৭ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আম, কাঁঠাল, লিচু ও ড্রাগন ফলের পাশাপাশি গ্রীষ্মের অন্যতম জনপ্রিয় ফল এই তালের শাঁস। চলতি মৌসুমে কোটচাঁদপুর পৌর শহরের কলেজ বাসস্ট্যান্ডের বটতলা, পোস্ট অফিস মোড়, মেইন বাজার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সড়ক এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের মোড়ে মোড়ে মৌসুমি বিক্রেতারা তালের স্তূপ নিয়ে বসেছেন। পথ চলতে চলতে চোখের সামনে পড়ায় মূলত সাধারণ পথচারীরাই এই দোকানগুলোর প্রধান ক্রেতা। দূর থেকে দেখলে মনে হয় মানুষের বড় কোনো জটলা, কিন্তু কাছে গেলে দেখা যায় বিক্রেতারা হাড়ভাঙা খাটুনিতে তাল কেটে ক্রেতাদের হাতে শাঁস তুলে দিচ্ছেন।
তালের শাঁস কিনতে আসা আকরাম হোসেন নামের এক ক্রেতা বলেন, “তালের ভেতরের স্বচ্ছ, নরম শাঁস আর মিষ্টি পানি এই গরমে একদিকে যেমন তৃষ্ণা মেটায়, অন্যদিকে শরীরের রোগ প্রতিরোধেও দারুণ কাজ করে। এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং ফ্রিজের ঠান্ডা পানীয়ের চেয়ে অনেক বেশি উপকারী। এ কারণে সব বয়সের মানুষই ভিড় করছেন।” তবে গত বছরের তুলনায় এবার দাম কিছুটা বেশি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মৌসুমি তালের শাঁস বিক্রেতা মোস্তফা মন্ডল (৪৫) জানান, তিনি বছরের অন্য সময় ব্যাটারিচালিত ভ্যান চালালেও গত ১০ বছর ধরে এই বটতলায় তালের শাঁস বিক্রি করে আসছেন। লক্ষ্মণ হালদার নামের আরেক বিক্রেতা দাম বেশির কারণ জানিয়ে বলেন, “তালের শাঁস বিক্রি করা একটি মৌসুমী ব্যবসা। গত বছরের তুলনায় এবার গাছ মালিকরা পাইকারি তালের দাম অনেক বেশি নিয়েছেন। এ কারণে আমাদেরও বাধ্য হয়ে কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।” দাম একটু বেশি হলেও তাজা ও পুষ্টিকর হওয়ায় বিক্রিতে কোনো ভাটা পড়ছে না।
এআইএল/সকালবেলা