অনলাইন ডেস্ক : আসন্ন ২০২৭ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার সময়সূচি পবিত্র রমজান মাসের সময়কালকে বিবেচনায় নিয়ে এগিয়ে আনা হয়েছিল। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই প্রাথমিক সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশের অভিভাবক ও শিক্ষার্থী মহলে এটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা এবং মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে দেশের সর্বস্তরের অংশীজন, শিক্ষক ও অভিভাবকরা চাইলে পরীক্ষার পূর্বনির্ধারিত সূচিতে আবারও বড় ধরণের পরিবর্তন আনা হতে পারে বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
আজ মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুর ২টা ৫৩ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘শিক্ষা’ ও ‘জাতীয় শিক্ষানীতি ও একাডেমিক পরিকল্পনা’ বিভাগের এক বিশেষ সংবাদ প্রতিবেদনে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার ভবিষ্যৎ সূচি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য বিস্তারিতভাবে তুলে করা হলো।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের জরুরি সভা শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই মন্তব্য করেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের এসএসসি পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়সূচি নির্ধারণের প্রাথমিক সিদ্ধান্তটি দেশের সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের (Stakeholders) সঙ্গে যথেষ্ট আলোচনা ও পর্যালোচনার মাধ্যমেই নেওয়া হয়েছিল। তবে এখন পবিত্র রমজান মাসের কারণে পরীক্ষার সময় কিছুটা এগিয়ে নিয়ে আসার ফলে সোশ্যাল মিডিয়াসহ (Social Media) বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও বিতর্ক তৈরি হচ্ছে। আমরা কোনো অনড় অবস্থানে নেই। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে প্রয়োজনে আমরা ফের অংশীজন এবং শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নতুন করে নীতিগত আলোচনায় বসবো।” এ সময় তিনি সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, দেশের আপামর জনসাধারণের যৌক্তিক দাবি থাকলে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার সূচিতে আবারও যেকোনো ধরণের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বা সমন্বয় সাধন করা যাবে।
পরীক্ষার সূচি নির্ধারণের নেপথ্য জটিলতা তুলে ধরে আ ন ম এহছানুল হক মিলন আরও বলেন, “আমরা এসএসসি পরীক্ষার সূচি নিয়ে জনসাধারণের প্রত্যক্ষ মতামত গ্রহণের জন্য আবারও একটি যৌথ মতবিনিময় সভার আয়োজন করতে পারি। মূলত ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে পবিত্র রোজা শুরু হওয়ার কারণে একাডেমিক ক্যালেন্ডার ঠিক রাখতে পরীক্ষা প্রায় এক মাস এগিয়ে আনার কথা ভাবা হয়েছিল। তা না হলে আমাদের মূল পরিকল্পনা তো ছিল পরীক্ষাটি ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে শুরু করার। কিন্তু এখন অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে তাড়াহুড়ো না করে পরীক্ষাটি যেন রোজার পবিত্র মাস শেষ হওয়ার পর সুবিধাজনক সময়ে সম্পন্ন করা হয়।”
শিক্ষামন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, “যেকোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেবল আলোচনার মধ্য দিয়েই সুনির্দিষ্ট হবে। তবে জনসাধারণের ও অভিভাবকদের মতামতের পাশাপাশি আমাদের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কারিকুলাম এবং নির্ধারিত সিলেবাস সম্পূর্ণ কাভার (Cover) বা শেষ হতে হবে। সঠিক সময়ে সিলেবাস শেষ না হলে তো কোনোভাবেই একটি জাতীয় পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হতে পারে না। তাই সব দিকের ভারসাম্য বজায় রেখেই চূড়ান্ত রুটিন প্রকাশ করা হবে।”
জান্নাত সকালবেলা