নেত্রকোনা প্রতিনিধি: নেত্রকোনায় মাদকাসক্ত এক যুবকের বর্বরোচিত হামলায় মনোয়ারা বেগম (৪৮) নামে এক গৃহবধূ নিহত এবং তাঁর স্বামী ও সন্তান গুরুতর আহত হয়েছেন।
গতকাল সোমবার (১ জুন) রাতে পৌর শহরের উত্তর কাটলী এলাকায় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত অভিযুক্ত আব্দুর রশিদ (৩২)-কে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তর কাটলী এলাকার এরশাদ মিয়ার ছেলে আব্দুর রশিদের সাথে মনোয়ারা বেগমের সুদে টাকার লেনদেন ছিল। সোমবার রাতে মাদক সেবনের জন্য তিনি মনোয়ারা বেগমের কাছে সুদে টাকা চাইলে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে রশিদ ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো দা দিয়ে হামলা চালান। হামলায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মনোয়ারা বেগমের মৃত্যু হয়।
এ সময় মাকে রক্ষা করতে গিয়ে ছেলে মুন্না (২২) এবং পরবর্তীতে স্ত্রী-সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে স্বামী ঠিকাদার আবু চাঁনও দায়ের কোপে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মুন্নাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। আবু চাঁন বর্তমানে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতের মেয়ে এষা মনি জানায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকার সুযোগে আব্দুর রশিদ পানি পান করার অজুহাতে তাঁদের বাড়িতে প্রবেশ করেন। রশিদের আচরণ অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় সে বিষয়টি মাকে জানিয়ে প্রাইভেট পড়তে চলে যায়। পরে বাড়ি ফিরে বাবা ও ভাইকে রক্তাক্ত এবং খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ঘরের খাটের নিচে মায়ের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আব্দুর রশিদকে আটক করা হয়েছে। সিআইডি ও পিবিআইয়ের ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলে এসে আলামত সংগ্রহ করবে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে কি না, তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
এআইএল/সকালবেলা