আবারও মার্কিন-ইরান সংলাপ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ০৩:৩২ অপরাহ্ণ
আবারও মার্কিন-ইরান সংলাপ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার পর, নাটকীয়ভাবে সিদ্ধান্ত পাল্টে আবারও কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরেছে ইরান। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আঞ্চলিক একটি সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই আলোচনা আবারও সঠিক পথে ফিরে এসেছে।

এর আগে গতকাল সোমবার (১ জুন) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘তাসনিম নিউজ’ জানিয়েছিল, লেবাননে ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত করছে তেহরান। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই দাবি নাকচ করে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, দুই দেশের আলোচনা মোটেও বন্ধ হয়নি, বরং তা ‘দ্রুতগতিতে’ এগিয়ে চলছে।

তাসনিমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ইরান আলোচনা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তেহরানের মতে, লেবাননসহ সব ফ্রন্টেই যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘিত হয়েছে। এই কারণে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ও তথ্য আদান-প্রদান স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ইরানের আলোচক দল।

তবে সংলাপের এই টানাপোড়েন নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, আলোচনা বন্ধ হয়ে গেলেও তিনি তা নিয়ে খুব বেশি উদ্বিগ্ন নন। সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিএনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “সত্যি বলতে, এগুলো শেষ হয়ে গেলেও আমার কিছু আসে যায় না। আমি মোটেও পরোয়া করি না।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং হিজবুল্লাহর একজন নেতার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে এবং ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ এখন থেকে পরস্পরের ওপর আর হামলা চালাবে না।

ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের পাশাপাশি লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। এসব বিষয়ে ইরান ও তাদের মিত্রদের অবস্থানে সন্তুষ্টি না আসা পর্যন্ত কোনো আলোচনা সামনে এগোবে না। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সম্প্রতি এক্সে (টুইটার) লিখেছেন, “একটি ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অর্থ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন।” এর যেকোনো পরিণতির জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেন।

এই কূটনৈতিক বাদানুবাদের মধ্যেই কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ঘটনা ঘটে, যা মার্কিন বাহিনী ভূপাতিত করেছে বলে দাবি করেছে। মার্কিন সেন্টকমের দাবি, এতে কোনো সেনা হতাহত হননি। অন্যদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই হামলার দায় স্বীকার করে বলেছে, ইরানের সিরিক দ্বীপে হামলার জন্য যে মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটিকে লক্ষ্য করেই এই ‘বৈধ আত্মরক্ষামূলক’ পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।

আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে একটি নতুন পথনকশা নিয়ে কাজ করছে, যেখানে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের পারস্পরিক হামলা বন্ধের প্রস্তাব রয়েছে। তবে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, লেবাননে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তিই চূড়ান্ত হবে না।

সূত্র: সিএনএন, আল-জাজিরা ও তাসনিম নিউজ।

মন্তব্য করুন