জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী-সমর্থক এবং বহু মানুষ অংশগ্রহণ করেন
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা এবং সাবেক শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের শেষ জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) বাদ জোহর ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার পাশে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
প্রয়াত নেতার শ্যালক আলমগীর তালুকদার জানান, মঙ্গলবার সকালে ঢাকা থেকে বিশেষ হেলিকপ্টারে করে তোফায়েল আহমেদের মরদেহ ভোলায় নিয়ে আসা হয়। জোহরের নামাজ শেষে ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তাঁর মরদেহ জন্মভূমি কোড়ালিয়া গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পারিবারিক গোরস্থানে মা-বাবার কবরের পাশেই তাঁকে দাফন করা হয়। তিনি আরও জানান, তোফায়েল আহমেদের শেষ বিদায়ে অংশ নিতে সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ জানাজায় শামিল হয়েছিলেন।
এদিকে বর্ষীয়ান এই নেতার জানাজায় অংশ নিতে বেলা ১২টার পর থেকেই সাধারণ মানুষ ও সর্বস্তরের রাজনৈতিক কর্মীরা স্কুলমাঠে সমবেত হতে শুরু করেন। এ সময় স্থানীয়রা ভোলার উন্নয়নে তোফায়েল আহমেদের অসামান্য অবদান এবং জন্মভূমির প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসার কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। ভোলা সদরের এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তোফায়েল আহমেদ জীবিত থাকা অবস্থায় সবসময় ভোলার সব এমপিদের এলাকার উন্নয়নের জন্য তাগিদ দিতেন। মৃত্যুর আগেই তিনি নিজের গ্রামে মা-বাবার পাশে কবর দেওয়ার অসিয়ত করে গিয়েছিলেন, যা আজ বাস্তবায়িত হলো।
তোফায়েল আহমেদের জানাজা প্রসঙ্গে ভোলা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ রুবেল মন্তব্য করেন, “বিএনপি একটি সহানুভূতিশীল এবং মানবিক দল। এই কারণে তোফায়েল আহমেদের জানাজা যাতে অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে অনুষ্ঠিত হয়, সেই লক্ষ্যে জেলা ছাত্রদল সার্বিক সহযোগিতা ও ব্যবস্থা করেছে।” তবে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাদের মধ্যে এমন রাজনৈতিক মানবিকতা ছিল না এবং তারা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নুর আলমের জানাজা পর্যন্ত ঠিকমতো পড়তে দেয়নি।