আজ মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেল ৩টা ২৬ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘সারাদেশ’ ও ‘আঞ্চলিক রাজনীতি ও আইনশৃঙ্খলা’ বিভাগের এক বিশেষ সংবাদ প্রতিবেদনে ভোলার এই থমথমে ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় ভোলার ঐতিহ্যবাহী সরকারি স্কুল মাঠে সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের দ্বিতীয় জানাজা নামাজের সময়সূচি নির্ধারিত করা হয়েছিল। তবে জানাজা শুরু হওয়ার আগে থেকেই এই আয়োজনকে ঘিরে মাঠ ও এর আশপাশের এলাকায় জেলা যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং শ্রমিক দলের নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। একপর্যায়ে সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল লতিফ টিটুর নেতৃত্বে একদল বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মী সরাসরি জানাজাস্থলে এসে অবস্থান নেন এবং কোনো অবস্থাতেই জানাজা করতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে মাঠের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন।
এ সময় তারা জানাজাস্থলে কর্তব্যরত পুলিশ প্রশাসনকে সাফ জানিয়ে দেন যে, জানাজাকে কেন্দ্র করে বা মরহুম তোফায়েল আহমেদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর নামে যদি কোনো ধরনের উসকানিমূলক রাজনৈতিক বক্তব্য কিংবা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়, তবে তারা সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করবেন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হওয়ার আশঙ্কায় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রাইসুল আলম দ্রুত জানাজাস্থলে ছুটে আসেন এবং যুবদলের নেতাকর্মীদের বুঝিয়ে মাঠ থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে নিয়ে যান।
জানাজা বয়কট ও প্রতিবাদের নেপথ্য কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ভোলার সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল লতিফ টিটু অতিত স্মৃতির ক্ষোভ প্রকাশ করে গণমাধ্যমকে বলেন, “বিগত ২০২২ সালে দেশে তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের দাবিতে ভোলার মাটিতে বিএনপির শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলাকালীন পুলিশের গুলিতে জেলা ছাত্রদলের তৎকালীন জনপ্রিয় সভাপতি নুরে আলম নির্মমভাবে নিহত হন। তখন এই ভোলা সরকারি স্কুল মাঠেই শহীদ নুরে আলমের জানাজা নামাজের আয়োজন করতে চেয়েছিল তাঁর পরিবার ও বিএনপি। কিন্তু তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার, স্থানীয় প্রশাসন ও তোফায়েল আহমেদের পেটোয়া বাহিনী সেই জানাজাটি করতে দেয়নি। শুধু তাই নয়, পরবর্তীতে জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে তোফায়েল আহমেদ ছাত্রদল নেতা নুরে আলমের পবিত্র মৃত্যু নিয়ে চরম মিথ্যা ও বানোয়াট বক্তব্য প্রদান করেছিলেন।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তোফায়েল আহমেদ তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শেষ সময়ে এসে খোদ নিজ দল আওয়ামী লীগের ভেতরেই এক প্রকার কোণঠাসা ও নীতিগতভাবে একাকী হয়ে পড়েছিলেন। তবে তাঁর মৃত্যুর পর জন্মস্থানে শেষ জানাজা সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে পুরোনো সেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং আজ জানাজা চলাকালীন হঠাৎ কিছু অতিউত্সাহী কর্মীর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার ধৃষ্টতাই মূলত ভোলার শান্ত পরিস্থিতিকে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলেছে। বর্তমানে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ভোলা সরকারি স্কুল মাঠ ও পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।
জান্নাত সকালবেলা