শাকিবের ‘রকস্টার’ নিয়ে সিঙ্গেল স্ক্রিনে চরম হতাশা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১২:৩০ অপরাহ্ণ
শাকিবের ‘রকস্টার’ নিয়ে সিঙ্গেল স্ক্রিনে চরম হতাশা
বিনোদন ডেস্ক : গত পবিত্র ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া ‘প্রিন্স’ চলচ্চিত্রের চরম বাণিজ্যিক ব্যর্থতা ও লোকসানের দায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে শাকিব ভক্ত ও হল মালিকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন ঢালিউড কিং ও সুপারস্টার শাকিব খান। সেই ধাক্কা সামলে এবারের ঈদুল আজহায় শাকিবের নতুন ছবি নিয়ে চাতক পাখির মতো অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন দেশের শত শত প্রেক্ষাগৃহের মালিকেরা। কারণ, বাংলাদেশে দুই ঈদকে কেন্দ্র করেই মূলত সিনেমা হলের মূল ব্যবসা এবং কোটি কোটি টাকার লেনদেন আবর্তিত হয়। বাকি সময় অধিকাংশ সিঙ্গেল স্ক্রিন বন্ধই রাখতে হয়। তবে হল মালিকদের সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর কোটি টাকার বিনিয়োগকে এবারও চরমভাবে নিরাশ ও হতাশ করলো শাকিব খানের ঈদ ধামাকা ‘রকস্টার’ (Rockstar)। মাল্টিপ্লেক্সে প্রথম দুই দিনের সেল কিছুটা স্বস্তিদায়ক হলেও, দেশের সিংহভাগ ঐতিহ্যবাহী সিঙ্গেল স্ক্রিনের চিত্র ঠিক তার উল্টো।

আজ মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘বিনোদন’ ও ‘ঢালিউড বক্স অফিস’ বিভাগের এক বিশেষ প্রতিবেদনে শাকিব খানের নতুন ছবির বাজার পরিস্থিতি এবং হল মালিকদের চরম হতাশার চিত্র বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি ও বুকিং এজেন্টদের সূত্রে জানা গেছে, তরুণ ও প্রতিভাবান পরিচালক আজমান রুশো পরিচালিত ‘রকস্টার’ সিনেমাটি নিয়ে শাকিব ভক্ত ও সাধারণ দর্শকদের মাঝে মুক্তির আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ ভালো কৌতূহল ও উন্মাদনা দেখা গিয়েছিল। কিন্তু ঈদের দিন ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর থেকেই দর্শকেরা হল থেকে চরম হতাশ হয়ে ফিরছেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবিটির দুর্বল স্ক্রিপ্ট ও মেকিং নিয়ে নেতিবাচক রিভিউ দিচ্ছেন। হল সংশ্লিষ্ট অনেকের মতে, এই সাইকোলজিক্যাল ও মিউজিক্যাল ঘরানার ছবিটি আসলে দেশের সব শ্রেণির সাধারণ দর্শকদের (Mass Audience) উপভোগ করার মতো বাণিজ্যিক মসলা দিয়ে তৈরি করা হয়নি।

আজ দুপুরে কথা হয় দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও বৃহৎ প্রেক্ষাগৃহ ঢাকার ‘মধুমিতা’ সিনেমা হল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। ঢালিউডের ইতিহাসে এক সময় নিয়মই ছিল— শাকিব খানের নতুন ছবি মুক্তি পাওয়া মানেই মতিঝিলের মধুমিতা হলের সামনে হাজার হাজার দর্শকের উপচে পড়া ভিড়, টিকিট কালোবাজারি আর হাউজফুল বোর্ডের জয়জয়কার। কিন্তু সেই সোনালী দিন এখন অতীত। গত ঈদে মুক্তি পাওয়া শাকিবের ‘প্রিন্স’ ছবিতে মধুমিতায় কোনো আশানুরূপ দর্শক সাড়াই মেলেনি। আর এবার ঈদে মুক্তি পাওয়া ‘রকস্টার’-এর বাণিজ্যিক অবস্থা আরও নাজুক ও শোচনীয় রূপ ধারণ করেছে। গতকাল সোমবার (১ জুন) দুপুরের একটি বিশেষ শো-তে মধুমিতা হলের উচ্চমূল্যের ডিসি (Dress Circle) বা ব্যালকনি সিটে মাত্র ৯ জন দর্শক বসে শাকিব খানের ‘রকস্টার’ সিনেমাটি দেখেছেন! এমন অবিশ্বাস্য ও কাছাকাছি রকমের করুণ অবস্থা বিরাজ করছে দেশের প্রায় সব জেলা শহরের সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলোতে।

সার্বিক মন্দা পরিস্থিতি নিয়ে চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে মধুমিতা হলের কর্ণধার ও প্রবীণ চলচ্চিত্র প্রদর্শক ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ গণমাধ্যমকে বলেন, “ভেবেছিলাম গত ঈদুল ফিতরে শাকিবের ছবি ফ্লপ হওয়ায় আমরা যে লাখ লাখ টাকার বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছিলাম, এবার ঈদে ‘রকস্টার’ দিয়ে সেই লোকসান কিছুটা হলেও লাঘব করতে পারব। কিন্তু শাকিব খানের এই ছবির অবস্থা তো দেখছি আগেরটার চেয়েও ভয়াবহ খারাপ। হলে দর্শক সমাগম একেবারেই নেই বললেই চলে। একটা শো চালাতে যে পরিমাণ এসি ও বিদ্যুতের খরচ হয়, টিকিটের টাকা দিয়ে তার অর্ধেকও উঠছে না। এভাবে দিনের পর দিন লোকসান দিয়ে সিনেমা হল চালানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সিনেমা ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা থেকে এতদিন ধৈর্য ধরে লোকসান গুনেও হলটি টিকিয়ে রেখেছিলাম। কিন্তু এবার আমাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে, এভাবে চলতে থাকলে এবার সিনেমা হলের ব্যবসা পাকাপাকিভাবে গুটিয়ে ফেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আমাদের নিতেই হবে।”

চলচ্চিত্র বাজার বিশ্লেষকদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের আধুনিক স্টার সিনেপ্লেক্স ও ব্লকবাস্টার সিনেমাসগুলোতে ‘রকস্টার’ ছবির পারফরম্যান্স ও সেল সিঙ্গেল স্ক্রিনের তুলনায় বেশ ভালো এবং ইতিবাচক। তবে শাকিব খানের আগের ব্লকবাস্টার হিট ছবি ‘তুফান’ কিংবা ‘বরবাদ’-এর মতো কোনো থিয়েটারেই টিকিটের জন্য হাহাকার বা টানা হাউজফুল যাওয়ার মতো উন্মাদনা তৈরি করতে পারছে না এই সিনেমাটি। শুধু শাকিবের ছবিই নয়, এবারের ঈদে মুক্তি পাওয়া অন্য কোনো সিনেমার বাজারও খুব একটা জমে ওঠেনি।

উল্লেখ্য, এবার ঈদে শাকিব খানের ‘রকস্টার’ চলচ্চিত্রটি সারা দেশের ১০০-রও বেশি প্রেক্ষাগৃহে একযোগে মুক্তি পেয়েছে। যার মধ্যে সিংহভাগই ছিল প্রান্তিক অঞ্চলের সিঙ্গেল স্ক্রিন। ফলস্বরূপ, ছবির এমন ধীরগতির ও হতাশাজনক ব্যবসায় বড় ধরনের মূলধন হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন হল মালিকেরা। এই চলচ্চিত্রে প্রথমবারের মতো কিং খানের বিপরীতে প্রধান নায়িকা হিসেবে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাবিলা নূর এবং গ্ল্যামারাস মডেল তানজিয়া জামান মিথিলা।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন