সংগৃহীত ছবি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সাম্প্রতিক কয়েক মাসের মধ্যে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরজুড়ে সবচেয়ে বড় ও ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। মঙ্গলবার (২ জুন) ভোরে চালানো এই সমন্বিত হামলায় দেশটিতে নতুন করে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ছয়জন দিনিপ্রো শহরের এবং বাকি চারজন রাজধানী কিয়েভের বাসিন্দা। এই হামলায় শিশুসহ আরও কয়েক ডজন বেসামরিক মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, রাজধানী কিয়েভের বেশ কয়েকটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট লক্ষ্য করে এই বিমান হামলা চালানো হয়। এর ফলে বহু মানুষ বিধ্বস্ত ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন। আটকা পড়াদের উদ্ধারে ভোর থেকেই উদ্ধারকারীরা ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছেন। রাশিয়ার এই বিধ্বংসী হামলার পর কিয়েভের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলি বের হতে দেখা যায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো সাধারণ নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানের অনুরোধ জানিয়েছেন।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসক তৈমুর তাকাচেঙ্কো নিশ্চিত করেছেন যে, রুশ বাহিনী রাজধানীতে ব্যালিস্টিক মিসাইল (ক্ষেপণাস্ত্র) ব্যবহার করে এই হামলা চালিয়েছে। এর আগে গতকাল সোমবারই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছিলেন, শত্রুপক্ষ বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছে বলে তাঁদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। তাঁর এই আশঙ্কার কয়েক ঘণ্টার মাথায় রাশিয়া এই হামলা শুরু করে।
মূলত গত সপ্তাহে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন লুহানস্কের একটি কলেজ ক্যাম্পাসে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল ইউক্রেন, যাতে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীসহ ২১ জন নিহত হন। ওই ঘটনার পর থেকেই রাশিয়া ধাপে ধাপে এর কঠোর জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল, যার ফলশ্রুতিতে এই ব্যাপক হামলা চালানো হলো বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি।