পোশাক নিয়ে হেনস্তার অভিযোগে নায়লা নাঈমের ক্ষোভ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ
পোশাক নিয়ে হেনস্তার অভিযোগে নায়লা নাঈমের ক্ষোভ
নিজস্ব প্রতিবেদক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায় নিজের সাথে ঘটে যাওয়া অত্যন্ত অপ্রীতিকর, অনাকাঙ্ক্ষিত ও গা শিউরে ওঠা এক হেনস্তার ঘটনার বিবরণ দিয়ে গভীর ক্ষোভ ও তীব্র মানসিক যন্ত্রণা প্রকাশ করেছেন দেশের আলোচিত ও বিতর্কিত মডেল-অভিনেত্রী নায়লা নাঈম।

আজ মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ৭টা ৩৬ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘সোশ্যাল মিডিয়া’ ও ‘বিনোদন গ্ল্যামার’ বিভাগের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই মডেলের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টের স্ট্যাটাস এবং পুরো ঘটনার বিবরণ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

নায়লা নাঈম দাবি করেছেন, ঢাকা সংলগ্ন সাভারের একটি স্থানীয় কাঁচাবাজারে মায়ের সাথে সাধারণ সবজি কিনতে গেলে সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে এক অজ্ঞাতপরিচয় মধ্যবয়সী ব্যক্তি তাঁকে দুই হাত দিয়ে সজোরে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে দেন এবং তাঁর পরিহিত পোশাক নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর ও ধর্মান্ধ মন্তব্য করেন।

গতকাল সোমবার (১ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিজের অফিশিয়াল ও ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ ও আবেগঘন পোস্টে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে নায়লা নাঈম লেখেন, “এটা কি সত্যিই কোনো স্বাধীন রাষ্ট্র? দয়া করে আমাকে কেউ এই প্রশ্নের উত্তর দিন? ব্যক্তিগতভাবে সমাজের যারা আমাকে চেনেন বা আমার খোঁজখবর রাখেন, তারা সবাই খুব ভালো করেই জানেন যে আমি সাধারণ জীবনে কতটুকু শালীন ও সাধারণ পোশাক পরে সাধারণ মানুষের মতো চলাফেরা করি। উল্লেখ্য, আমি সম্পূর্ণ একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তি।”

ফেসবুক পোস্টে তিনি ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, গতকাল সোমবার তিনি তাঁর মায়ের সাথে সাভারের একটি স্থানীয় বাজারের রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে সাধারণ ক্রেতাদের মতো সবজি কিনছিলেন। ঠিক এই সময় মাথায় টুপি পরা ও দাড়িওয়ালা আনুমানিক ৪২ থেকে ৪৫ বছর বয়সী এক মধ্যবয়সী ব্যক্তি হঠাৎ করে কোনো কিছু না বলেই তাঁর সামনে এসে অত্যন্ত আক্রোশবশত দুই হাত দিয়ে ধাক্কা মেরে তাঁকে পাকা রাস্তায় ফেলে দেয়।

এই জঘন্য বিষয়ে নিজের ভীতি ও বিস্ময় প্রকাশ করে নায়লা নাঈম বলেন, “মাথায় টুপি পরা ও দাড়িওয়ালা সেই মধ্যবয়সী লোকটা আমাকে দুই হাত দিয়ে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে দিয়ে সবার সামনে চিৎকার করে বলেছে— আমার মাথায় কেন পর্দা নেই... আমি কেন এরকম প্রকাশ্য বাজারে বেপর্দা হয়ে ঘোরাফেরা করছি।”

অভিনেত্রীর দাবি, ঘটনার এমন আকস্মিকতা ও অতর্কিত হামলায় তিনি কিছু বুঝে ওঠার আগেই ভারসাম্য হারিয়ে পিচের রাস্তার ওপর ছিটকে পড়ে যান। এতে সাথে সাথে তাঁর হাত থেকে বাজারের ব্যাগটি রাস্তায় পড়ে যায় এবং তিনি নিজের বাম হাতে ও কনুইতে বেশ গুরুতর আঘাত পান।

পোস্টে তিনি আরও লেখেন, “ঘটনার এই আকস্মিকতা ও তীব্র আতঙ্ক আমি নিজে মনে মনে বুঝে ওঠার আগেই আমার সাথে থাকা আম্মু প্রচণ্ড ভয় পেয়ে যান এবং আমাকে টেনেহিঁচড়ে রাস্তা থেকে তুলে দ্রুত একটি চলন্ত অটোতে করে ওখান থেকে নিরাপদ স্থানে সরে যান।”

সেই মুহূর্তে বাজারে উপস্থিত থাকা নিজের মায়ের চরম মানসিক আতঙ্ক ও অসহায়ত্বের কথাও অত্যন্ত সকরুণভাবে পোস্টে তুলে ধরেন এই গ্ল্যামার কন্যা। তিনি জানান, জনসমক্ষে এমন হেনস্তার শিকার হওয়ার পরও তাঁর মা লোকটির বিরুদ্ধে কোনো ধরণের পাল্টা প্রতিক্রিয়া বা প্রতিবাদ দেখাতে মিম ও নায়লাকে কঠোরভাবে নিষেধ করেন।

নায়লা নাঈমের দাবি, তাঁর মা তখন অনাকাঙ্ক্ষিত গণপিটুনি বা আরও বড় ধরণের লাঞ্ছনার ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বলেছিলেন, “নিজের গায়ে যদি সঠিক উপায়ে কাপড় নিয়ে অক্ষত অবস্থায় বাসায় ফিরতে চাও, তবে ভুলেও একটা টুঁ শব্দ বা প্রতিবাদ করবে না।”

অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের রাষ্ট্রের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে নায়লা নাঈম শেষ অংশে লেখেন, “আমার মা এখনো সেই বাজারের ভয়ে ও আতঙ্কে থরথর করে কাঁপছেন। থুঁতু মারলাম এ রাষ্ট্রের কপালের মধ্যে।”

তবে এই প্রকাশ্য লাঞ্ছনা ও শারীরিক হেনস্তার ঘটনার পর অভিনেত্রী নায়লা নাঈম স্থানীয় সাভার মডেল থানায় বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো লিখিত বা আইনি অভিযোগ দায়ের করেছেন কি না, সেটি তাঁর ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে স্পষ্ট করেননি। এই ঘটনার পর তাঁর ভক্তমহল ও সচেতন নেটিজেনদের মাঝে সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও নিন্দার ঝড় বইছে।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন