গতকাল সোমবার (১ জুন) বিকেলে নরসিংদীর পলাশ উপজেলা ও ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রবীণ এই রাজনীতিক এসব কথা বলেন। আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে এই বিশেষ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।
পলাশ উপজেলা মাল্টিপারপাস অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ড. মঈন খান নতুন প্রজন্মের কাছে প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার ওপর জোর দিয়ে বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শুধু কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ঘোষকই ছিলেন না, তিনি নিজের জীবন বাজি রেখে সম্মুখ সমরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বীরত্বের সাথে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। সেই বীরত্ব ও সত্য ইতিহাস সঠিকভাবে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ তথা আজকের নতুন প্রজন্মের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া আমাদের রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়িত্ব।”
সাবেক এই মন্ত্রী বিগত সরকারের শিক্ষাব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “বিগত ১৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী সরকার এদেশের স্কুল-কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের একটি সম্পূর্ণ বিকৃত ও মিথ্যা ইতিহাস শিখিয়েছে। স্কুলের ছোট ছেলে-মেয়েরা সেখানে নিয়মিত লেখাপড়া শিখবে, আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি চর্চা করবে। কোনো দলের ভ্রান্ত ও নোংরা রাজনীতি বা মিথ্যা চাটুকারিতা শেখার জন্য আমাদের সন্তানরা স্কুলে যায় না।”
আওয়ামী লীগের অর্থনৈতিক নীতি ও লুটপাটের চিত্র তুলে ধরে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, “ইতিহাস সাক্ষী, এই আওয়ামী লীগই ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়ে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একটি ‘তলাবিহীন ঝুড়িতে’ পরিণত করেছিল। পরবর্তীতে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে মহান নেতা জিয়াউর রহমান সেই ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করেন এবং শূন্য ঝুড়িকে একটি স্বনির্ভর ও পূর্ণ ঝুড়িতে রূপান্তর করেছিলেন। অথচ স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ বিগত ১৭ বছরে মেগা প্রজেক্টের নামে দেদারসে লুটপাট করে এদেশের জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে পুনরায় দেশের অর্থনীতিকে একবারে দেউলিয়া ও ভঙ্গুর করে দিয়ে গেছে।”
জিয়াউর রহমানের সাধারণ জীবনযাপন ও দেশপ্রেমের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিজের পরিবার-পরিজন, স্ত্রী-সন্তানের মায়া ও ভবিষ্যৎ বিসর্জন দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও জনগণের স্বার্থে বারবার মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি শুধু এদেশের সুশৃঙ্খল প্রেসিডেন্টই ছিলেন না, তিনি ছিলেন সাধারণ মেহনতি মানুষের ‘রাখাল রাজা’। তাঁর রাজনীতি ছিল সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন, শৃঙ্খলা ও নিখাদ দেশপ্রেমের রাজনীতি। আজকে রাষ্ট্র পরিচালনায় আমরা যে টেকসই খাদ্য নিরাপত্তার কথা বড় গলায় বলি, জিয়াউর রহমান তাঁর দূরদর্শী চিন্তাভাবনা থেকে আজ থেকে প্রায় ৫০ বছর আগেই দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে সরকারি খাদ্য গুদাম নির্মাণ করে প্রান্তিক মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে গিয়েছিলেন।”
পলাশ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে এবং স্থানীয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই স্মরণসভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন— উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন ভুঁইয়া মিল্টন, ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির সভাপতি আলম মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, পলাশ উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আল আমিন ভূঁইয়া এবং পলাশ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাজমুল হোসেন সোহেলসহ স্থানীয় অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। আলোচনা সভা শেষে শহীদ জিয়ার রুহের মাগফিরাত এবং দেশের সার্বিক কল্যাণ কামনা করে এক বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
জান্নাত সকালবেলা