আজ মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ১০টা ৫৭ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘জাতীয়’ ও ‘রাজনীতি’ বিভাগের এক বিশেষ প্রতিবেদনে সরকারের এই সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার রদবদল এবং পার্বত্য মন্ত্রীর আকস্মিক পদত্যাগের নেপথ্য ঘটনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও দলীয় নীতিনির্ধারণী ফোরামের একাধিক সূত্র বলছে, সম্ভাব্য নতুন মন্ত্রীদের তালিকায় ঢাকা সংলগ্ন নারায়ণগঞ্জ জেলার একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় ও তরুণ সংসদ সদস্যের (MP) নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছে। প্রধানমন্ত্রীর খুব কাছের ও বিশ্বস্ত ব্যক্তি হিসেবে তরুণ এই নেতার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে।
পাশাপাশি রাজধানী সংলগ্ন নরসিংদী জেলা থেকে আরও একজন প্রভাবশালী সংসদ সদস্যকে নতুন মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে। এ ছাড়া হাওরবেষ্টিত নেত্রকোনা জেলা থেকে একজন এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের একজন জনপ্রিয় নারী সংসদ সদস্যের নাম মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দলীয় হাইকমান্ডে বেশ জোরেশোরে আলোচনা হচ্ছে।
একই সাথে বৃহত্তর নোয়াখালী জেলার একজন অত্যন্ত প্রবীণ ও সিনিয়র বিএনপি নেতাকেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নতুন মন্ত্রিসভায় অতি শিগগিরই গুরুত্বপূর্ণ কোনো দপ্তরের দায়িত্ব দিয়ে অন্তর্ভুক্ত করার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সূত্রগুলো আরও জানায়, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা, রাজধানী ঢাকা এবং উত্তরবঙ্গের বৃহত্তর পাবনা জেলা থেকেও নতুন করে মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে যাচ্ছেন কয়েকজন ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা। এ ছাড়া বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদে (Advisory Council) দায়িত্ব পালন করছেন এমন একজনকে টেকনোক্র্যাট কোটায় পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়েও নীতিনির্ধারকদের মাঝে জোরালো আলোচনা শোনা যাচ্ছে। এর পাশাপাশি একাধিক হেভিওয়েট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা দুই-তিনজন মন্ত্রীর বর্তমান দপ্তর পরিবর্তন বা পুনর্বণ্টন হতে পারে বলে জোর গুঞ্জন চলছে।
সরকারের উচ্চপর্যায়ে মন্ত্রিসভার এই রদবদলের গুঞ্জন ও জল্পনা-কল্পনার মাঝেই, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আকস্মিকভাবে সরকারের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। গতকাল সোমবার (১ জুন) বিকেলে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র জমা দেন।
তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন মাসের মাথায় একজন পূর্ণ মন্ত্রীর এমন আকস্মিক পদত্যাগের ঘটনায় মন্ত্রিসভার অন্যান্য জ্যেষ্ঠ সদস্য ও প্রশাসনে বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতি এবং চরম অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। দীপেন দেওয়ান সত্যিই কি গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কারণে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন, নাকি এই সিদ্ধান্তের পেছনে রাঙামাটি অঞ্চলের কোনো গভীর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ বা অন্য কোনো বিশেষ কারণ লুকিয়ে আছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা ও সচিবালয় মহলে নানা আলোচনা, গুঞ্জন ও রহস্য তৈরি হয়েছে।
এদিকে, পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের এই আকস্মিক পদত্যাগের খবর পাহাড়ি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার পর, তাঁর এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে রাঙামাটি জেলা শহরে তীব্র বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও এর সকল অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। আজ সকালে বিক্ষোভকারীরা রাঙামাটির প্রধান প্রধান সড়ক অবরোধ করে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং মন্ত্রীর পদত্যাগপত্র অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভা প্রধানমন্ত্রীসহ বর্তমানে মোট ৫০ সদস্য বিশিষ্ট। এর মধ্যে ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পালন করছেন।
কালবেলা প্রতিবেদক