মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ০১:০৫ অপরাহ্ণ
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

ছবি: আল জাজিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের প্রেস অফিসে সাংবাদিকদের প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে ফেরার পর গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার সীমিত করার যে ধারাবাহিক প্রক্রিয়া চলছে, পেন্টাগনের এই সিদ্ধান্তকে তারই সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই খবর নিশ্চিত করেছে।

পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত প্রেস সেক্রেটারি জোয়েল ভালদেজ সোমবার জানান, প্রশাসন এই দপ্তরটিকে একটি ‌‘সংবেদনশীল সংরক্ষিত তথ্য কেন্দ্র’ হিসেবে পুনঃনির্ধারণ করেছে। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, এই অফিসটি এমন সব কর্মকর্তা বা ব্যক্তি ব্যবহার করেন যাদের কাছে সরকারের অত্যন্ত গোপনীয় তথ্যে প্রবেশাধিকার রয়েছে।

আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ভালদেজ আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিয়মিত গোপনীয় তথ্য নিয়ে কাজ করেন এবং তাঁদের সুরক্ষিত কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ‘এসআইপিআরনেট’ ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। এই নিরাপত্তা জনিত কারণেই সাংবাদিকদের আর এই দপ্তরে অবাধে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। এখন থেকে শুধু পূর্বনির্ধারিত বা আগে থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া সাক্ষাতের মাধ্যমেই সেখানে প্রবেশ করা যাবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট সর্বপ্রথম এই খবরটি সামনে আনে।

প্রতিরক্ষা দপ্তরের এই নতুন পদক্ষেপটি সামরিক বাহিনী এবং মার্কিন সরকারের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র সম্পর্কে গণমাধ্যমগুলোর স্বাধীনভাবে প্রতিবেদন করার ক্ষমতা খর্ব করার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে গত মার্চ মাসে প্রেস ক্রেডেনশিয়াল বা পাস পাওয়ার জন্য নতুন নিয়ম আরোপ করার বিরুদ্ধে ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’ আদালতে একটি মামলা দায়ের করে এবং এক বিচারক তাদের পক্ষে রায় দেন। ওই রায়ের পরই প্রতিরক্ষা বিভাগ ঘোষণা দেয় যে, তারা আর কোনো গণমাধ্যমকে পেন্টাগন কমপ্লেক্সের ভেতরে স্থায়ী কার্যালয় বা অফিস রাখার অনুমতি দেবে না।

এছাড়াও, পেন্টাগন সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে, কমপ্লেক্সের ভেতরে থাকাকালীন সাংবাদিকদের সাথে সার্বক্ষণিক একজন আনুষ্ঠানিক রক্ষী বা এসকর্ট থাকতে হবে। গত মে মাসে দায়ের করা একটি পৃথক মামলায় ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’ পেন্টাগনের এই বিতর্কিত নীতিটি বাতিল করার জন্য আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা।

মন্তব্য করুন