ইমতিয়াজ মাহমুদ ইমন, কক্সবাজার: কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখন এক ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে। প্লাস্টিক, পলিথিন ও দূষিত পানি ক্যাম্প ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ছে স্থানীয় কৃষিজমি, খাল ও জলাশয়ে। এই দূষণের থাবা থেকে রক্ষা পাচ্ছে না সীমান্ত নদী নাফ-ও। বর্ষা সমাগত হওয়ায় এই পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ এখন চরমে।
উখিয়ার রাজাপালং ও পালংখালী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষকরা এখন দিশেহারা। স্থানীয় বাসিন্দা কামাল উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জমিতে এখন আর ফসল নয়, চাষ হচ্ছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ময়লা-আবর্জনা।” রাজাপালং ইউনিয়নের মেম্বার ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন ও পালংখালী ইউপি চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিপুল অর্থ ব্যয়ের কথা বললেও বাস্তবে তার কোনো সুফল স্থানীয়রা পাচ্ছেন না। বৃষ্টির সাথে ভেসে আসা বর্জ্য মাটির উর্বরতা নষ্ট করছে এবং পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন খাল—যেমন পালংখালী, থাইংখালী, বালুখালী ও ঘুমধুম খাল হয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য গিয়ে পড়ছে নাফ নদীতে। এতে নদীর নাব্যতা কমছে এবং মাছের প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস হচ্ছে। জেলে রশিদ আহমদ আক্ষেপ করে বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে একদিন নদীটাই মরে যাবে।” পরিবেশবিদদের মতে, দ্রুত টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না হলে এই অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য চিরতরে হারিয়ে যাবে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রিফাত আসমা কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, “বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখন শুধু ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়, এটি স্থানীয় কৃষি ও পরিবেশের জন্য বড় হুমকি। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে স্থানীয় জনগণকে মারাত্মক মূল্য দিতে হবে।” এদিকে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নিয়মিত নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে এবং কোনো গাফিলতি পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ.আই.এল/সকালবেলা