শরণখোলায় সাবেক ছাত্রদল নেতাকে পিটিয়ে হত্যা: গ্রেপ্তার ৩

শরণখোলায় সাবেক ছাত্রদল নেতাকে পিটিয়ে হত্যা: গ্রেপ্তার ৩

মাসুম বিল্লাহ, বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটের শরণখোলায় প্রতিপক্ষের হামলায় আরিফুল ইসলাম মাসুম (৩২) নামে সাবেক এক ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর ঘটনায় ১৬ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে নিহতের বড় ভাই শহিদুল ইসলাম হাওলাদার বাদী হয়ে শরণখোলা থানায় মামলাটি করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— খলিল বয়াতী, তানজের বয়াতী ও শাহজালাল বয়াতী। শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামিনুল হক গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত আরিফুল ইসলাম মাসুম সাউথখালী ইউনিয়নের খুড়িয়াখালী গ্রামের মৃত বিএনপি নেতা আব্দুল মজিদ হাওলাদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘ দিন মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েক দিন আগে ভোট দিতে দেশে ফিরেছিলেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার (১ মার্চ) রাত ১১টার দিকে মাসুম তার শ্বশুরবাড়ি থেকে দাওয়াত খেয়ে স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে খুড়িয়াখালী গ্রামের পিলের রাস্তা এলাকায় একদল দুর্বৃত্ত তার গতিরোধ করে এলোপাতাড়ি মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) আশরাফ উল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. বেল্লাল হোসেন মিলন অভিযোগ করেন, বাগেরহাট-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। নির্বাচনের পরের দিন একটি সহিংস ঘটনার ভিডিও ধারণ করায় মাসুমের ওপর ক্ষিপ্ত ছিল জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। তারই জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে সাউথখালী ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা মোশাররফ হোসেন বলেন, “এই ঘটনার সাথে জামায়াত বা শিবিরের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বিএনপির অভিযোগ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

শরণখোলা থানার ওসি শামিনুল হক জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নির্বাচনী একটি ঘটনার ভিডিও করা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে এই হামলা হয়। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন