ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
জুয়েল রানা, উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় আইনের তোয়াক্কা না করে তিন ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। এতে চাষাবাদযোগ্য জমির পরিমাণ হ্রাসের পাশাপাশি পরিবেশ ও গ্রামীণ অবকাঠামো মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সলঙ্গা থানা ছাত্রদলের এক প্রভাবশালী নেতার নেতৃত্বে এই অবৈধ সিন্ডিকেট পরিচালিত হচ্ছে।
থানার দত্তকুশা কালিপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, এক্সকাভেটর (ভেকু) দিয়ে কৃষি জমি ১০ থেকে ১৫ ফুট গভীর করে খনন করা হচ্ছে। এভাবে গভীর গর্ত করায় পাশের ফসলি জমি ও বসতভিটা ধসে পড়ছে। ফলে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে নামমাত্র মূল্যে সিন্ডিকেটের কাছে জমি বিক্রি করে দিচ্ছেন। এছাড়া অবৈধভাবে মাটি বহনের ফলে গ্রামীণ কাঁচা-পাকা সড়কগুলো ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এসব মাটিবাহী ট্রলি ও ট্রাক চালাচ্ছেন অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকরা, যার ফলে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয়দের দাবি, বাশিদবকোল, জোনজালী পাড়া ও কালিপুর এলাকায় দিন-রাত এই অবৈধ খনন কাজ চালাচ্ছেন সলঙ্গা থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কাইয়ুম ইসলাম। প্রভাবশালী হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পান না। এ বিষয়ে কাইয়ুম ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এটি তাঁর 'পয়েন্ট' বলে স্বীকার করেন এবং দায় এড়াতে ফোনটি অন্য এক নেতার কাছে হস্তান্তর করেন।
ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী, কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে ইটের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, "ফসলি জমির শ্রেণি পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ নেই। অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, অবৈধভাবে পুকুর খনন বা জমির টপ সয়েল কাটার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
এ.আই.এল/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ