মৌলভীবাজারে জ্বালানি সংকটে বিপাকে কৃষক

মৌলভীবাজারে জ্বালানি সংকটে বিপাকে কৃষক

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারে তীব্র জ্বালানি সংকটের প্রভাবে কৃষিখাতে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ডিজেল সংকটের কারণে হাওর অঞ্চলে বোরো ধান কাটা ও মাড়াই ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আউশ ধানের আবাদ নিয়েও গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষিযন্ত্র চালানোর প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় সোনালি ফসল ঘরে তোলা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলার কৃষকেরা।

বর্তমানে জেলার হাওরগুলোতে পুরোদমে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। কিন্তু ধান কাটার হারভেস্টর মেশিন, মাড়াই কল এবং ধান পরিবহনের যানগুলো সবই ডিজেলচালিত। জ্বালানি তেলের অভাবে এসব যন্ত্র চালানো সম্ভব হচ্ছে না। রাজনগর উপজেলার হারভেস্টর মালিক জুবের আহমদ জানান, প্রতিদিন একটি মেশিনের জন্য ৮০-১০০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হলেও তা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে কাটার উপযুক্ত ধান মাঠেই পড়ে থাকার উপক্রম হয়েছে।

বোরো মৌসুমের পাশাপাশি বর্তমানে আউশ ধানের বীজতলা তৈরি ও হালচাষের ভরা মৌসুম। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত সত্ত্বেও ডিজেল না থাকায় কৃষকরা ট্রাক্টর বা পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি প্রস্তুত করতে পারছেন না। প্রান্তিক পর্যায়ের ছোট দোকানগুলোতে তেল বিক্রি বন্ধ থাকায় গ্রামে গ্রামে হাহাকার দেখা দিয়েছে।

কাউয়াদিঘী হাওরের কৃষক আলমাস মিয়া জানান, শ্রমিক সংকটের এই সময়ে হারভেস্টর মেশিনই ছিল বড় ভরসা। কিন্তু তেলের অভাবে মেশিন না আসায় এবং পরিবহনের গাড়ি না পাওয়ায় তিনি মহা বিপদে পড়েছেন। একই সুর শোনা গেছে আউশ চাষীদের কণ্ঠেও; ট্রাক্টর মালিকরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—তেল নেই, তাই জমি চাষ হবে না।

মৌলভীবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৩৮ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আউশ এবং ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন স্বীকার করেছেন যে জ্বালানি সংকটে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। তিনি জানান, সমস্যা সমাধানে পেট্রোল পাম্প মালিকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন