মুকসুদপুরে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ

মুকসুদপুরে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ

মুকসুদপুর (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে আদালতের ১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও জোরপূর্বক ভবন নির্মাণ এবং সরকারি খাল ও সড়ক ও জনপথের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এতে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতার আশঙ্কায় হাজারো কৃষক চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকাবাসী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাগাট মৌজার ৫২ শতাংশ জমির মধ্যে সিরাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি তাঁর বৈধ মালিকানাধীন ২৬ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু দিগনগর গ্রামের মৃত আলেম মুন্সীর ছেলে আবু জাফর মুন্সি ওই জমির পূর্ব অংশে জোরপূর্বক ভবন নির্মাণ শুরু করেন। সিরাজুল ইসলামের অভিযোগ, আদালতে ১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও আবু জাফর তা উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং বাধা দিলে উল্টো চাঁদাবাজি মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিচ্ছেন।

বিরোধপূর্ণ ওই স্থানের পাশেই সরকারি খাল ও সড়কের জমি রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আবু জাফর সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করায় খালের পানি নিষ্কাশন পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে কৃষিজমি জলাবদ্ধ হয়ে পড়ার এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া খালের পাড় দিয়ে কৃষকদের চলাচলের একমাত্র পথটিও সংকুচিত হয়ে পড়ায় কৃষিপণ্য পরিবহনে মারাত্মক বিড়ম্বনা তৈরি হয়েছে।

ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের যথাযথ তদারকির অভাবে এই দখল কার্যক্রম চলছে। একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েও কোনো ফল মেলেনি। এ অবস্থায় দখলমুক্ত হয়ে খাল পুনঃখনন ও চলাচলের পথ পুনরুদ্ধারের দাবিতে এলাকাবাসী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে আবু জাফর মুন্সি দখলের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আদালতের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি কোনো নির্মাণকাজ করবেন না।

সব মিলিয়ে, মুকসুদপুরের এই ঘটনা এখন কেবল জমি বিরোধেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং সরকারি সম্পদ রক্ষা ও গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতি বাঁচানোর এক বড় দাবিতে রূপ নিয়েছে।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন