দলের দুঃসময়ের ত্যাগীদের মূল্যায়নের আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
সমকাল প্রতিবেদক
বাংলাদেশ ও দলের দুঃসময়ে পরম ত্যাগ স্বীকার করা নিষ্ঠাবান নেতাকর্মীদের প্রতিশ্রুত যথাযথ মূল্যায়নের দৃঢ় আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
গতকাল রোববার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমানের সঙ্গে এক বিশেষ সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই আশ্বাসের কথা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
সাক্ষাতকালে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলনে যুবদল নেতা হাবিবুর রহমানের অসামান্য অবদান, ব্যক্তিগত ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আন্দোলনে মারাত্মকভাবে আহত হাবিবুরের বর্তমান শারীরিক কষ্ট ও চিকিৎসার বিষয়ে গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করেন তিনি।
কথোপকথনের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "দলের চরম সংকটকালে তোমার যে অবিস্মরণীয় অবদান ও ত্যাগ, তা দল কখনো বিস্মৃত হবে না। তুমি যেভাবে দলের আদর্শের জন্য নিজের সময়, শ্রম ও জীবন বাজি রেখে ত্যাগ স্বীকার করেছ, ইনশাআল্লাহ আগামীতে দল তার যথাযথ মূল্যায়ন করবে।"
আন্দোলনের সময় পাওয়া শরীরের আঘাত ও যন্ত্রণা প্রসঙ্গে আবেগঘন কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, "তুমি যে শারীরিক যন্ত্রণা ও ক্ষত নিয়ে আজও বেঁচে আছ, সেই একই রকম যন্ত্রণা আমিও দীর্ঘদিন ধরে বহন করে চলেছি। মহান আল্লাহ আমাদের সবার এই রক্ত ও ত্যাগ কবুল করুন।"
উল্লেখ্য, হাবিবুর রহমান জুলাই আন্দোলনের একদম প্রথম সারির একজন সাহসী সংগঠক হিসেবে রাজপথে পরিচিত ছিলেন। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশের পর থেকে তিনি বিরোধী দলের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ২০ জুলাই যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়া এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষের সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।
নিজের চিকিৎসার বর্ণনা দিয়ে হাবিবুর রহমান জানান, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে একটি স্থানীয় ফার্মেসিতে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নেওয়া হলেও পরিস্থিতির কারণে পর্যাপ্ত চিকিৎসা পাননি। পরবর্তীতে সময়মতো সঠিক ও উন্নত চিকিৎসাসেবা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান না পাওয়ায় সেই পুরনো ক্ষত এখনো তাঁকে চরম শারীরিকভাবে ভোগাচ্ছে। ঘটনার এতদিন পার হয়ে গেলেও তিনি একাধিক শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ শেষে স্মৃতিচারণ করে হাবিবুর রহমান আবেগপ্লুত কণ্ঠে বলেন, "এই অভিশপ্ত জুলাই আমাদের জীবন থেকে অনেক অমূল্য জিনিস কেড়ে নিয়েছে, যা কোনো কিছুর বিনিময়ে আর কখনো ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। কীভাবে যে প্রতিদিন অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে আছি, সেই কষ্টের কথা আমার পরিবার ছাড়া আর কেউ অনুধাবন করতে পারবে না।"
তিনি আরও যোগ করেন, "দলের জন্য জীবন বাজি রেখে রাজপথে আন্দোলন করেছি, দিনের পর দিন রাস্তায় থেকেছি, রক্ত দিয়েছি। আমার শতভাগ বিশ্বাস, দল আমাদের এই ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করবে। আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে জড়িয়ে ধরে দোয়া করেছেন, সাহস দিয়েছেন এবং স্পষ্টভাবে বলেছেন—আমার অবদানের মূল্যায়ন অবশ্যই হবে।"
প্রসঙ্গক্রমে, হাবিবুর রহমান এর আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য, সহ-অর্থ সম্পাদক, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-স্কুলবিষয়ক সম্পাদক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পরবর্তীতে যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।