লংমার্চে বাধা দিলে ৬ দফা এক দফায় রূপ নেবে: নাহিদ ইসলাম
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে বিদ্যমান তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের পটভূমিতে রাজপথে গড়ানো লংমার্চকে আপামর জনতার মৌলিক অধিকারের সংগ্রাম আখ্যা দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “সরকার যদি এই শান্তিপূর্ণ লংমার্চে সামান্যতম বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করে, তবে ১১ দলের ঘোষিত ৬ দফা দাবি অবিলম্বে সরকার পতনের ‘এক দফা’ আন্দোলনে রূপ নেবে।”
আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে ঐতিহাসিক গণভোটের গণরায় অবিলম্বে বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার বিচারসহ ৬ দফা দাবিতে আয়োজিত ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী রোড লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। বৃহৎ এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক আয়োজন করে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় রাজনৈতিক ঐক্য।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটে মানুষের যখন নাভিশ্বাস উঠেছে, তখন রাজপথে নামা এই লংমার্চ কেবল কোনো রাজনৈতিক জোটের নয়, এটি দেশের আপামর সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। ক্ষমতায় বসে নতুন করে যারা ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচার হওয়ার দুঃস্বপ্ন দেখছে, যারা বাজার ও পরিবহনে নির্বিচারে চাঁদাবাজি কায়েম করেছে এবং যারা গণভোটের ঐতিহাসিক গণরায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে জাতির সাথে সরাসরি প্রতারণা করেছে—এই লংমার্চ তাদের বিরুদ্ধেই সোচ্চার আওয়াজ।”
তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, “শাসকগোষ্ঠী যত বাধাই তৈরি করুক না কেন, ১১ দলীয় ঐক্যের এই জনস্রোত সব প্রতিবন্ধকতা উপড়ে ফেলে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে গিয়ে পৌঁছাবে।”
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জনগণের ন্যায্য অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেললে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। গন্তব্যের পথে যেকোনো বাধা এলে তা বীরদর্পে রাজপথেই মোকাবিলা করে আমরা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাব।”
সরকারকে লক্ষ্য করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, “ক্ষমতার মসনদে বসে জাতিকে ভুল পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করা হলে সেই মসনদ থেকে টেনে নামাতে আমাদের হাত এক চুলও কাঁপবে না।”
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “সরকার জনদুর্ভোগ লাঘবে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করে তারা জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। অবিলম্বে সংসদে দাঁড়িয়ে সরকারকে নিজেদের ভুল স্বীকার করতে হবে এবং সংবিধান সংস্কারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
বর্তমান সরকারের বিগত ছয় মাসের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “১৫০ টাকার লাঞ্চের সস্তা গল্প আর ৫০ হাজার পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ছাড়া গত ৬ মাসে এই সরকারের বলার মতো কোনো বাস্তব সাফল্য নেই। ৩১ দফা ও জুলাই সনদের কথা বলে জনগণের সাথে ওয়াদার বরখেলাপ করা হচ্ছে।”
সকাল ৭টায় কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশ শুরু হওয়ার পর সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে শত শত যানবাহনের সুদীর্ঘ বহর নিয়ে লংমার্চটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয়। কর্মসূচি অনুযায়ী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার, ফেনীর মহীপাল ও চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ধারাবাহিক পথসভা শেষে সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে বিশাল সমাপনী সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।