জামায়াতের লংমার্চে লাখ লিটার তেল অপচয় ও ভোগান্তি: রাশেদ খান

প্রকাশ: শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
জামায়াতের লংমার্চে লাখ লিটার তেল অপচয় ও ভোগান্তি: রাশেদ খান
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খান (

নিজস্ব প্রতিবেদক: জামায়াত ঘোষিত ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের কারণে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক অচল করে রাখা এবং প্রায় এক লাখ লিটার মূল্যবান জ্বালানি তেল অপচয়ের ফলে জনভোগান্তি ও জাতীয় জ্বালানিসংকট আরও তীব্র হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খান।

আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ রাজনৈতিক বিশ্লেষণী পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।

ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান উল্লেখ করেন, “বিরোধী দলের নেতাদের চোখেমুখে এখন কেবলই স্পষ্ট হতাশার ছাপ! জামায়াত ঘোষিত এই লংমার্চে তাদের নিজস্ব দলীয় নেতাকর্মীদের বাইরে সাধারণ মানুষের কোনো প্রকার আগ্রহ কিংবা স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নেই। দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব হয়তো ভেবেছিল রাজপথের দুই ধারে সাধারণ জনতার উপচে পড়া ঢল নামবে এবং জামায়াতের আমিরের গাড়ি মানুষের ভিড়ে এগোতেই পারবে না! কিন্তু বাস্তবতা হলো, লংমার্চে এত বিপুল দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগের পরেও সাধারণ মানুষকে রাজপথে টানতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট (যেখান থেকে ইতোমধ্যে দুটি দল জোট ত্যাগ করেছে)।”

বিদ্যমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট টেনে তিনি আরও লেখেন, “দেশের সাধারণ মানুষ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও গ্যাস সংকট নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন ও ওয়াকিবহাল। ক্ষমতায় আসার মাত্র ছয় মাসের একটি সরকারের ওপর বিগত ১৮ থেকে ২০ বছরের পুঞ্জীভূত সমস্যা, সংকট ও প্রাতিষ্ঠানিক অব্যবস্থাপনার দায় চাপানোর যে অপচেষ্টা বিরোধী পক্ষ করছে, তা রাজনৈতিক মূর্খতারই শামিল। সরকার আন্তরিকতার সাথে স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে দিনরাত সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”

বিরোধী দলের ঘোষিত ৬ দফা দাবির প্রতি সাধারণ মানুষের কোনো সম্পৃক্ততা বা আগ্রহ নেই দাবি করে রাশেদ খান লেখেন, “এভাবে কৃত্রিমভাবে রাস্তাঘাট বন্ধ রাখা এবং গাড়ির বহরে প্রায় ১ লাখ লিটার তেল অপচয় করার কারণে একদিকে মানুষের যাতায়াতের ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে জাতীয় জ্বালানিসংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্বাভাবিক নিয়মে হাজার হাজার যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। জামায়াতের এই রাজনৈতিক শোডাউনের কারণে সাধারণ গণপরিবহন ও পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।”

পোস্টের শেষাংশে তিনি অর্থনৈতিক ঝুঁকির দিক তুলে ধরে বলেন, “মহাসড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অচলাবস্থার কারণে রাষ্ট্রের প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার আর্থিক লোকসান হচ্ছে। সম্পূর্ণ সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থ চরিতার্থ করতে এবং প্রকাশ্য মিথ্যাচার ও প্রতারণাকে পুঁজি করে নিরীহ সাধারণ মানুষের ঘাড়ে একপ্রকার জোরপূর্বক এই তথাকথিত লংমার্চ আন্দোলন চাপিয়ে দিয়েছে জামায়াত।”

মন্তব্য করুন