সনাতনীদের ভোটব্যাংক ভাবার ফ্যাসিবাদী মিথ ভেঙে গেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক: অতীতের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শক্তি এ দেশের সনাতন ধর্মের নাগরিকদের কেবল তাদের অনুগত ভোটব্যাংক মনে করত, সেই ভ্রান্ত ধারণা ও কৃত্রিম মিথ দেশের হিন্দু সম্প্রদায় সাহসিকতার সাথে ভেঙে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে রাজধানী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পলাশী মোড় থেকে শুরু হওয়া শুভ জন্মাষ্টমীর কেন্দ্রীয় বর্ণাঢ্য র্যালিতে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ধর্মীয় স্বাধীনতা সুরক্ষায় রাষ্ট্রের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের সংবিধানে প্রত্যেক নাগরিকের স্বাধীনভাবে ধর্মচর্চা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার নিরঙ্কুশ দায়িত্ব রাষ্ট্রকে দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থা তা অক্ষরে অক্ষরে নিশ্চিত করবে। ধর্মের ভিত্তিতে কোনো প্রকার বৈষম্য বা ভেদাভেদ করা যাবে না—এ কথাও সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে। সব ধর্মাবলম্বীর উপাসনালয় স্থাপন ও পরিচালনা এবং এর ধর্মীয় কর্তাদের পূর্ণ স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
তিনি আরও দৃঢ়তার সঙ্গে যোগ করেন, “আমরা এই অধিকারগুলো কেবল লিখিত সংবিধানে বা কেতাবে সীমাবদ্ধ রেখে আত্মতুষ্টিতে ভুগতে চাই না। বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়ে আমরা এই ধর্মীয় সহাবস্থান, সম্প্রীতি ও অবাধ ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করব এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে সেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণাই আমরা দিচ্ছি।”
নাগরিক ঐক্যের দর্শন তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “ব্যক্তিজীবনে প্রত্যেকের নিজস্ব ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় থাকতেই পারে, কিন্তু রাষ্ট্রের কাছে সেই ধর্মীয় বিভাজন কোনো মুখ্য বিষয় নয়। আমাদের সবার মূল পরিচয় আমরা এ দেশের গর্বিত নাগরিক। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃগোষ্ঠী—সবাই নিজ নিজ ধর্ম, আচার ও ঐতিহ্য পূর্ণ স্বাধীনতা নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে পালন করবেন। কিন্তু জাতীয় ঐক্যের প্রশ্নে আমরা সবাই অবিভাজ্য বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবেই ঐক্যবদ্ধ থাকব।”
দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের নেতা স্পষ্ট করে ঘোষণা দিয়েছেন—সবার আগে বাংলাদেশ। যদি সবার আগে বাংলাদেশ হয়, তবে আমরা সবার আগে বাংলাদেশি। এরপর আমাদের ধর্মীয়, সামাজিক কিংবা নৃতাত্ত্বিক স্বাতন্ত্র্য। সবার আগে বাংলাদেশি এবং সবার জন্য বাংলাদেশ—এটাই আমাদের চলার পথ।”
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “স্বাধীন বাংলাদেশের সমমর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে আপনাদের কেউ কখনো হীনম্মন্যতায় ভুগে নিজেদের সংখ্যালঘু ভাববেন না বা পরিচয় দেবেন না। সংখ্যালঘু পরিচয়ের গণ্ডি পেরিয়ে রাষ্ট্রের সমান অংশীদার ও নাগরিক হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়ান। ধর্মের ভিত্তিতে নয়, রাষ্ট্রের সমান অধিকারভুক্ত একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে নিজেদের আত্মপরিচয় সমুন্নত রাখুন।”
সামাজিক সংহতির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “আজকের এই পবিত্র সমাবেশ থেকে আমাদের অঙ্গীকার হবে ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং সামাজিক শান্তি সুদৃঢ় রাখা। বিভাজনমূলক কোনো পরিভাষা ব্যবহারের আর প্রয়োজন নেই; এটি হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে ধর্মীয় সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং টেকসই সামাজিক শান্তি।”