২০১৪ সালের জুলাই–আগস্টে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের আমৃত্যু কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে করা রাষ্ট্রপক্ষের (প্রসিকিউশন) আপিল আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালতে আবেদনটি কার্যতালিকার ৫৮ নম্বর ক্রমিকে উপস্থাপনের জন্য রাখা হয়।
এর আগে, গত ১৫ ডিসেম্বর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে দেওয়া আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে।
রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, গত ১৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১ একটি অভিযোগে শেখ হাসিনা ও কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অপর একটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পর্যালোচনা শেষে আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা বৃদ্ধি করে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, ১৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের পাশাপাশি ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেন এবং দেশে থাকা তাদের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেন। একই মামলায় রাজসাক্ষী হওয়ায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি নয় দিন পর প্রকাশ করা হয়।
মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনা হলেও ট্রাইব্যুনাল দুটি অভিযোগে ছয়টি ঘটনার ভিত্তিতে রায় দেন। প্রথম অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকার’ আখ্যা দিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্যের সঙ্গে ফোনালাপে হত্যার নির্দেশ এবং এর পরিণতিতে রংপুরে আবু সাঈদ হত্যার ঘটনা উল্লেখ করা হয়। এসব অভিযোগে শেখ হাসিনা ও কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
দ্বিতীয় অভিযোগে ১৮ জুলাই ড্রোন, হেলিকপ্টার ও মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশসংক্রান্ত ফোনালাপ, ৫ আগস্ট চানখারপুলে ছয়জন আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা উল্লেখ করা হয়। এসব ঘটনায় তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষ পরে এক অভিযোগে দেওয়া আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করে। প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম জানান, মোট আটটি যুক্তিতে এই আপিল দায়ের করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন