পাকিস্তানে খামেনির মৃত্যুতে বিক্ষোভে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: নিহত ২৩

পাকিস্তানে খামেনির মৃত্যুতে বিক্ষোভে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: নিহত ২৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত রোববার (১ মার্চ ২০২৬) দেশটির বিভিন্ন শহরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষে অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স ও এএফপি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

করাচিতে কয়েকশ বিক্ষোভকারী মার্কিন কনস্যুলেটে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়। করাচি পুলিশ সার্জনের কার্যালয় জানিয়েছে, সন্ধ্যা পর্যন্ত সেখানে ১০ জন নিহত এবং ৭০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। নিহতদের সবাই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন বলে হাসপাতালের তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজধানী ইসলামাবাদে কয়েক হাজার মানুষ খামেনির ছবি হাতে রাজপথে নামেন। বিক্ষোভকারীরা মার্কিন দূতাবাসের দিকে অগ্রসর হতে চাইলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এছাড়া স্কারদু শহরে উত্তেজিত জনতা জাতিসংঘের একটি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করেছে। লাহোরসহ দেশটির অন্যান্য বড় শহরেও হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য পাকিস্তানে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর সরকার সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। পাকিস্তানের অনেক ধর্মীয় ও রাজনৈতিক দল খামেনিকে ‘শহীদ’ হিসেবে অভিহিত করে শোক প্রকাশ করেছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) তিনি লিখেছেন, "রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানকে লক্ষ্যবস্তু না করা একটি দীর্ঘকালীন আন্তর্জাতিক প্রথা। খামেনির শাহাদাতে পাকিস্তানের জনগণ ইরানের শোকাতুর মানুষের পাশে আছে।"

মন্তব্য করুন