খামেনি হত্যার প্রতিশোধ: হাইফায় হিজবুল্লাহর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

খামেনি হত্যার প্রতিশোধ: হাইফায় হিজবুল্লাহর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার প্রতিবাদ ও প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েলের হাইফা শহরের একটি সামরিক ঘাঁটিতে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। সোমবার (২ মার্চ ২০২৬) ভোরে এ হামলার দাবি করে গোষ্ঠীটি। আলজাজিরাসহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, তারা হাইফার দক্ষিণে অবস্থিত ‘মিশমার হাকারমেল’ (Mishmar HaCarmel) নামক একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ঘাঁটিতে উন্নত মানের ক্ষেপণাস্ত্র এবং একঝাঁক ড্রোন (swarm of drones) দিয়ে হামলা চালিয়েছে। গোষ্ঠীটি একে ‘খামেনির পবিত্র রক্তের প্রতিশোধ’ এবং ‘লেবানন ও তার জনগণকে রক্ষার লড়াই’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ বলে, "ইসরায়েলি আগ্রাসন এবং আমাদের নেতা ও যুবকদের হত্যার পাল্টা জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার আমাদের আছে। গত ১৫ মাস ধরে চলা এই আগ্রাসন বিনা চ্যালেঞ্জে চলতে পারে না।" তারা আরও জানায়, এই হামলাটি ইসরায়েলি বাহিনীকে লেবাননের অধিকৃত ভূখণ্ড থেকে পিছু হটতে বাধ্য করার একটি সতর্কবার্তা।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতির পর এটিই হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে চালানো প্রথম বড় ধরনের সরাসরি হামলা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরান ও তার মিত্র দেশগুলো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (IDF) জানিয়েছে, লেবানন থেকে ছোঁড়া বেশ কিছু প্রজেক্টাইল আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে এবং কিছু খোলা জায়গায় পড়েছে। এই হামলার পরপরই ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলি (দাহিয়েহ) সহ হিজবুল্লাহর বিভিন্ন অবস্থানে তীব্র বিমান হামলা শুরু করেছে।

এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে এক ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধের শঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে।

মন্তব্য করুন