ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
জহিরুল হক মিলন, ফেনী: ফেনীর সোনাগাজীতে বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর নাম ভাঙিয়ে ছোটফেনী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে চরছান্দিয়া ইউনিয়ন যুবদল নেতা আলাউদ্দিন মিন্টুর বিরুদ্ধে। এতে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে শতকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ছোটফেনী নদী সেতু ও সোনাগাজী-কোম্পানীগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক। জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই চলছে এই বালু উত্তোলনের মহোৎসব।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ছোটফেনী নদী সেতুর সোনাগাজী ও মুছাপুর অংশে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক খুরশিদ আলমের ভগ্নিপতি ও ইউনিয়ন যুবদল নেতা আলাউদ্দিন মিন্টু এবং তার সহযোগীরা। বালু উত্তোলনের ফলে সেতুর গোড়া থেকে মাটি সরে যাচ্ছে এবং আঞ্চলিক মহাসড়কটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি জেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম বন্ধ করে দিলেও গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল ২০২৬) থেকে পুনরায় বালু উত্তোলন শুরু করেছে এই চক্রটি।
অভিযোগ রয়েছে, আলাউদ্দিন মিন্টু নিজেকে পরিবেশমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ লোক দাবি করে প্রশাসন ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এছাড়া দক্ষিণ চরছান্দিয়া ও চরখোন্দকার এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের জমি ও মাছের ঘের দখলেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় এক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বলেন, “বালু উত্তোলনের ফলে নদীর দুই পাড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ইমাম হোসেন পবির বলেন, “আলাউদ্দিন মিন্টু দলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। কিন্তু ৫ আগস্টের পর তিনি দখল ও বালু উত্তোলনসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েছেন, যা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে।”
তবে অভিযুক্ত যুবদল নেতা আলাউদ্দিন মিন্টু সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি সামনে ইউনিয়ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হবো, তাই প্রতিপক্ষ আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি বালু উত্তোলন নয়, শুধু কেনাবেচা করি।”
সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রিগ্যান চাকমা জানান, ছোটফেনী নদীতে কোনো বৈধ বালুমহাল নেই। সেখানে অবৈধ বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে বারবার অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে আবারও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ.আই.এল/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ