রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পে উপাচার্যের বিরুদ্ধে ৯ শতাংশ ঘুষের অভিযোগ

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পে উপাচার্যের বিরুদ্ধে ৯ শতাংশ ঘুষের অভিযোগ

আবু কাওসার মাখন, রাজশাহী ব্যুরো: নির্মাণাধীন রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৯ শতাংশ ঘুষ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হকের বিরুদ্ধে। তবে উপাচার্য এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।

রাজশাহী নগরের সিলিন্দা এলাকায় প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস নির্মাণের বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। বর্তমানে প্রথম ধাপে প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যেখানে উপাচার্য নিজেই প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ১ হাজার ২০০ শয্যার হাসপাতাল, একাডেমিক ভবন এবং উপাচার্যের বাসভবনসহ মোট ৭৭৭ কোটি টাকার ছয়টি প্যাকেজের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এই দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ‘মেসার্স তাবাসসুম এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে।

এদিকে, ‘জেনিট করপোরেশন’-এর স্বত্বাধিকারী আতাউর রহমান টিপু সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, কাজ পাইয়ে দিতে উপাচার্য প্রথমে ৯ শতাংশ এবং পরে কমিয়ে ৭-৮ শতাংশ ঘুষ দাবি করেছিলেন। এমনকি ঘুষের অর্ধেক টাকা আগাম পরিশোধ এবং বাকি টাকার জন্য সিকিউরিটি চেক ও লিখিত সম্মতিপত্র দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। আতাউর রহমান বলেন, “আমি তাঁকে সরকারি ক্রয় নীতিমালা মেনে স্বচ্ছভাবে দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার অনুরোধ জানিয়েছি।”

সব অভিযোগ অস্বীকার করে উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হক বলেন, “এটি সম্পূর্ণ অবাস্তব ও বানোয়াট একটি অভিযোগ। জনৈক ঠিকাদার আমাকে বারবার ফোন করতেন বলে আমি তাঁর নম্বর ব্লক করে দিয়েছি। কারও সঙ্গে আমার এ ধরনের কোনো লেনদেন বা কথা হয়নি।” তিনি আরও জানান, দরপত্রের মূল্যায়ন প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে এবং বিধি মোতাবেক কাজ এগোচ্ছে।

বিশাল অংকের এই প্রকল্পের দরপত্র নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিতে পুরো বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন