মণিরামপুরে প্রশাসনের নাকের ডগায় মাদকের হাট: অভিযোগের শীর্ষে আলীম

মণিরামপুরে প্রশাসনের নাকের ডগায় মাদকের হাট: অভিযোগের শীর্ষে আলীম

আব্দুল্লাহ আল মামুন, যশোর: যশোরের মণিরামপুর পৌরশহরে প্রশাসনের একেবারে সন্নিকটে বছরের পর বছর ধরে চলছে মাদকের অবাধ কারবার। স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরভবন ও এসি ল্যান্ড (ভূমি) কার্যালয়ের মাত্র শত গজের মধ্যেই মৃত মোক্তার মোল্যার ছেলে আলীম হোসেন গড়ে তুলেছেন এক শক্তিশালী মাদক সাম্রাজ্য। তার বাড়িতে ২৪ ঘণ্টা গাঁজা ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য পাওয়া যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

আলীমের মাদক কারবারের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো এর অবস্থান। মাদক বিক্রির এই স্পটটির প্রবেশপথের দুই পাশেই রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে ‘প্রভাতী বিদ্যাপীঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ সংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত মাদক লেনদেন হওয়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এসব দৃশ্য প্রত্যক্ষ করছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকরা জানিয়েছেন, মাদক কারবারিরা স্কুলের গেট ব্যবহার করে অবাধে যাতায়াত করে, যা শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আলীম হোসেনের বিরুদ্ধে শুধু মাদক ব্যবসা নয়, বরং গুরুতর পারিবারিক অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। বড় ভাইয়ের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী-সন্তানদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা এবং অসুস্থ মায়ের সুচিকিৎসা না করার মতো অমানবিক অভিযোগ তুলেছেন প্রতিবেশীরা। থানা রেকর্ড অনুযায়ী, আলীমের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে এবং কয়েকবার গ্রেফতারও হয়েছেন তিনি। তবে কারাগার থেকে বেরিয়ে তিনি পুনরায় আরও সংগঠিতভাবে ব্যবসা শুরু করেন।

সম্প্রতি এক আইনশৃঙ্খলা সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হক মাদক নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো পরিবর্তন আসেনি। মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রজিউল্লাহ খান জানান, বেশ কয়েকবার আলীমকে আটক করা হলেও তখন তল্লাশিতে মাদক পাওয়া যায়নি।

মাদকের এমন সহজলভ্যতার ফলে মণিরামপুর পৌরশহরে উঠতি বয়সী যুবকদের মধ্যে মাদকাসক্তি জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এই ‘ওপেন সিক্রেট’ মাদক ব্যবসা অবিলম্বে বন্ধ না করলে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও সামাজিক অস্থিরতা চরম আকার ধারণ করবে।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন