মণিরামপুরে খালের মাটি ও সরকারি গাছ বিক্রির অভিযোগ: এলাকায় তোলপাড়

মণিরামপুরে খালের মাটি ও সরকারি গাছ বিক্রির অভিযোগ: এলাকায় তোলপাড়

আব্দুল্লাহ আল মামুন, যশোর: যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় ভবদহ জলাবদ্ধতা নিরসনে সেনাবাহিনী ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে চলমান খাল খনন কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে সরকারি গাছ ও খননকৃত মাটি বিক্রির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার সদর ইউনিয়নের দেবিদাসপুর গ্রামের কাকুড়িয়া বিল এলাকায় এই অনিয়মের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, খালের দুই পাড়ের প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের সরকারি গাছ কেটে বিক্রি করে দিয়েছেন দেবিদাসপুর গ্রামের আব্দুল বারী ও রবি নামের দুই ব্যক্তি। এছাড়া খননকৃত মাটি অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুর রহিম ও মাহফুজের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম জানান, তাদের জমির সীমানার গাছ কাটতে বাধা দিলে অভিযুক্তরা দাবি করেন পানি উন্নয়ন বোর্ড এসব গাছ বিক্রি করেছে। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বোর্ড কোনো গাছ বিক্রি করেনি। বরং গাছ বিক্রির মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ করে মাত্র ১৮ হাজার টাকা স্থানীয় মসজিদে দেওয়ার কথা বলে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

তিনি গাছ বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, সদর ইউপি চেয়ারম্যান নিস্তার ফারুক মাত্র ১৮ হাজার টাকায় গাছ বিক্রি করেছেন এবং সেই টাকা মসজিদের ক্যাশিয়ারের কাছে জমা আছে।

তিনি এই ঘটনার সাথে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে বলেন, “আমি বরং গাছ ও মাটি বিক্রিতে বাধা দিয়েছি। আমার নাম জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”

হিন্দু সম্প্রদায়ের গাছ বিক্রির টাকাও বর্তমানে ক্যাশিয়ার তাজুল ইসলামের কাছে রয়েছে বলে জানা গেছে।

বিষয়টি নিয়ে মণিরামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন উপজেলা প্রশাসনের প্রধানের সাথে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সম্রাট হোসেন জানান, অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন