ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
নাজিয়াত হোসেন, চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গায় পরিবেশ ও কৃষি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অবাধে চলছে কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি (টপ সয়েল) কাটা ও পরিবহনের মহোৎসব। সদর উপজেলার পদ্মবিলা ইউনিয়নের কুশোডাঙ্গা ও খেজুরা এলাকায় এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের ফলে কৃষিজমির স্থায়ী ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি জনদুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুশোডাঙ্গা হয়ে খেজুরা সড়ক দিয়ে প্রতিদিন দিনরাত ট্রাক্টরের ট্রলি যোগে এই মাটি নেওয়া হচ্ছে ডিঙ্গেদহ এলাকার ‘হিমালয় অটো ব্রিক্স’ ফিল্ডে। সেখানে পাহাড়সম মাটির স্তূপ গড়ে তোলা হচ্ছে। আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের বলেশ্বরপুর গ্রামের জনৈক আঃ রশিদ এই মাটি সরবরাহের সিন্ডিকেটটি নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি গভীর রাত থেকে নিয়মিতভাবে এই মাটি পরিবহন করা হচ্ছে। এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে রশিদের একটি গাড়িকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছিলেন। কিন্তু স্থানীয়দের দাবি, মাত্র তিন দিন কাজ বন্ধ থাকার পর পুনরায় দ্বিগুণ শক্তিতে এবং জনসম্মুখেই শুরু হয়েছে এই ধ্বংসযজ্ঞ।
এলাকাবাসী জানান, কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর অংশ কেটে নেওয়ার ফলে জমির উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। এছাড়া ভারী ট্রাক্টর ও ট্রলি চলাচলের কারণে গ্রামীণ সড়কগুলো দ্রুত ভেঙে যাচ্ছে এবং শুষ্ক মৌসুমে প্রচণ্ড ধুলাবালির সৃষ্টি হচ্ছে। এতে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। এলাকার সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—কার ছত্রছায়ায় এবং কোন প্রভাবে প্রশাসনের জরিমানাকে তোয়াক্কা না করে এই কার্যক্রম পুনরায় শুরু হলো?
পরিবেশ রক্ষা ও কৃষিজমি সংরক্ষণে এই অপতৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। তারা এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর এবং কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ