আজ মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ১১টা মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘অর্থনীতি’ ও ‘বাণিজ্যিক বাজার’ বিভাগের এক বিশেষ প্রতিবেদনে দেশের বাজারে সোনার এই বড় দরপতন ও রুপার সর্বশেষ বাজারমূল্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক জরুরি ও আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেশের সাধারণ ক্রেতা ও জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সংগঠনটি পরিষ্কার করে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেশের স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটে খাঁটি সোনা বা তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যাওয়ার কারণেই সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে তারা সোনার দাম কমানোর এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বাজুসের বেঁধে দেওয়া নতুন এই সংশোধিত দাম আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকেই সারা দেশের সকল জুয়েলারি দোকানে আনুষ্ঠানিক ও আইনগতভাবে কার্যকর করা হয়েছে।
বাজুসের নতুন নির্ধারিত মূল্যের তালিকা ও চার্ট অনুযায়ী, দেশের বাজারে বর্তমানে সবচেয়ে নিখুঁত ও ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম দুই লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। অভিজাতদের পছন্দের ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা এখন থেকে বাজারে বিক্রি হবে এক লাখ ৯২ হাজার ১৬৪ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৫৬ হাজার ৪৭৩ টাকা।
এদিকে বাজুস ক্রেতাদের জন্য দ্বিগুণ খুশির খবর দিয়ে সোনার আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রুপার দামও এক ধাক্কায় অনেকটাই কমিয়ে এনেছে। নতুন সরকারি চার্ট অনুযায়ী, বাজারে এখন থেকে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬০৭ টাকা এবং একদম সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার বাজারমূল্য ৩ হাজার ৪৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্ট ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঈদের পরপরই সোনা ও রুপার দামের এই বড় পতন দেশের মধ্যবিত্ত ও সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে বিশেষ করে আসন্ন বিয়ের কেনাকাটার ক্ষেত্রে এক বিশাল স্বস্তি এনে দেবে। তবে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি এবং ডলারের মূল্যের ওঠানামার কারণে আগামী দিনগুলোতে এই দাম আরও কমবে নাকি আবারও বৃদ্ধি পাবে, তা স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটের তেজাবি সোনার সরবরাহের ওপরই নির্ভর করছে।
জান্নাত সকালবেলা