নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রামের বন্দরনগরীর হালিশহর এলাকায় একটি ঘনবসতিপূর্ণ বস্তিতে আজ সকালে এক ভয়াবহ ও আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের (Fire Incident) ঘটনা ঘটেছে। আগুনের তীব্র লেলিহান শিখায় মুহূর্তের মধ্যে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে খেটে খাওয়া মানুষের অন্তত ১০ থেকে ১২টি কাঁচা বসতঘর।
আজ মঙ্গলবার (২ জুন) বেলা ১১টা ৪৯ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘জাতীয়’ ও ‘চট্টগ্রাম আঞ্চলিক’ বিভাগের এক জরুরি প্রতিবেদনে হালিশহরের এই অগ্নিকাণ্ড, ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযান ও ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল সাড়ে নয়টার দিকে হালিশহর থানার অন্তর্গত ‘আই ব্লক’ এলাকার ৪ নম্বর লেইনের ভেতরের ওই বস্তিতে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। ঘনবসতি হওয়ায় এবং ঘরগুলো বাঁশ-কাঠের তৈরি হওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকের ঘরগুলোতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রাথমিক ধারণা— বস্তির কোনো একটি বাসাবাড়ির রান্নার কাজে ব্যবহৃত লাকড়ির চুলা থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের প্রধান নিয়ন্ত্রণ কক্ষের অপারেটর গণমাধ্যমকে জানান, সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে তাদের কাছে হালিশহরের আই ব্লকে আগুন লাগার জরুরি খবরটি আসে। খবর পাওয়া মাত্রই ফায়ার সার্ভিসের নিকটস্থ স্টেশন থেকে ৪টি চৌকস ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে রওনা দেয় এবং যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। ফায়ার ফাইটারদের প্রায় আধা ঘণ্টার অবিরাম ও যৌথ প্রচেষ্টায় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস।
বস্তির ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় বাসিন্দারা অত্যন্ত সকরুণভাবে জানিয়েছেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হঠাৎ একটি ঘর থেকে কালো ধোঁয়া ও আগুন ছড়াতে দেখে তারা আতঙ্কে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে, ঘর থেকে কোনো মালামাল বের করার সুযোগ তারা পাননি। আগুনে ১০ থেকে ১২টি বসতঘরের ভেতরে থাকা সাধারণ মানুষের আসবাবপত্র, পরিধেয় বস্ত্র, নগদ টাকা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব মালামাল পুড়ে সম্পূর্ণ ছাই হয়ে গেছে।
ঘটনাস্থলে সরাসরি উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন গণমাধ্যমকে পরিস্থিতির বিবরণ দিয়ে বলেন, “আগুনে বস্তির প্রায় ১২ থেকে ১৩টি কাঁচা বাসাবাড়ি আংশিক ও সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত উপস্থিতির কারণে আগুন পাশের বহুতল ভবনগুলোতে ছড়াতে পারেনি। অত্যন্ত স্বস্তির বিষয় হলো, এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কোনো মানুষের প্রাণহানি বা গুরুতর হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে অগ্নিকাণ্ডে ঠিক কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, কত টাকার মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং আগুনের প্রকৃত সূত্রপাত কোথা থেকে— তা ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ তদন্ত কমিটির আনুষ্ঠানিক তদন্ত সাপেক্ষেই কেবল নিখুঁতভাবে বলা যাবে।” বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা খোলা আকাশের নিচে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।
জান্নাত সকালবেলা