বিচ্ছিন্নতাবাদী ইস্যুতে ভারতকে আশ্বস্ত করল মিয়ানমার

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ০১:২৩ অপরাহ্ণ
বিচ্ছিন্নতাবাদী ইস্যুতে ভারতকে আশ্বস্ত করল মিয়ানমার

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন কোনো কার্যক্রমের জন্য নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না মিয়ানমার। সোমবার (১ জুন) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর মিয়ানমারের অভ্যন্তরে অবস্থান ও তৎপরতা নিয়ে নয়াদিল্লির দীর্ঘদিনের উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে এই আশ্বাস এলো। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই মিন অং হ্লাইংয়ের প্রথম ভারত সফর। গত ৩০ জুন তিনি রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে পৌঁছান এবং আগামী ৩ জুন পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করবেন। উল্লেখ্য, গত ৩ এপ্রিল তিনি মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এর পাঁচ বছর আগে একটি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে তিনি দেশটির ক্ষমতা দখল করেছিলেন।

সোমবার দুই শীর্ষ নেতার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিসরি জানান, মিয়ানমারে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকা ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈঠকে দুই নেতা প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, গুরুত্বপূর্ণ ও বিরল খনিজসম্পদ (রেয়ার আর্থ) এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক সংযোগ প্রকল্প নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন।

ভারতের পররাষ্ট্রসচিব আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদি মিয়ানমারের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে উভয় পক্ষই একমত হয়েছে যে, কোনো দেশের ভূখণ্ড যেন অন্য দেশের নিরাপত্তাবিরোধী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত না হয়। উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা তুলে ধরে মিসরি বলেন, ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যে ১ হাজার ৬৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী মোদি উত্থাপন করলে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী ও নোবেলজয়ী অং সান সু চি’র বিষয়টিও উত্থাপন করেন, যিনি ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে আটক রয়েছেন। মোদি সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনা, অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপ এবং গণতন্ত্রের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তবে পররাষ্ট্রসচিব স্পষ্ট করেন যে, মিয়ানমারের বর্তমান সংকটের সমাধান মিয়ানমারের জনগণকেই তাদের নিজস্ব নেতৃত্বে করতে হবে।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি বৈঠকে মিয়ানমারে পরিচালিত সাইবার প্রতারণা চক্রের বিষয়টিও উঠে আসে। বিক্রম মিসরি জানান, গত দেড় বছরে মিয়ানমারের সাইবার প্রতারণা কেন্দ্রগুলো থেকে ২ হাজার ৪০০-এর বেশি ভারতীয় নাগরিককে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে এখনো প্রায় ১৫০ জন ভারতীয় নাগরিক সেখানে আটকে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং তাদের ফিরিয়ে আনতে উভয় দেশের সরকার ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।

মন্তব্য করুন