হামে মৃত শিশুদের অর্ধেকেরই টিকার বয়স হয়নি, ৭৭% পাননি টিকা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৩:৩৪ অপরাহ্ণ
হামে মৃত শিশুদের অর্ধেকেরই টিকার বয়স হয়নি, ৭৭% পাননি টিকা

স্বাস্থ্য রিপোর্ট: দেশে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত হয়েছে ৬০ হাজারেরও বেশি শিশু এবং প্রাণ হারিয়েছে চারশোর বেশি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর কিছু চিত্র—আক্রান্ত শিশুদের ৭৭ শতাংশই কোনো টিকা পায়নি এবং যারা মারা গেছে তাদের অর্ধেকই ছিল টিকা নেওয়ার বয়সের (৯ মাস) নিচে।

স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়

মারা যাওয়া শিশুদের অর্ধেকই ছিল ৯ মাসের কম বয়সী, অর্থাৎ তাদের টিকা নেওয়ার বয়সই হয়নি। হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির মাত্র এক দিনের মধ্যেই মারা গেছে ২৫ শতাংশ শিশু। অর্ধেক শিশুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হলেও তাদের শেষ রক্ষা করা যায়নি। এমনকি তিন মাস বয়সী শিশুও এই রোগে প্রাণ হারিয়েছে।

চব্বিশে (২০২৪-২৬ সময়কাল) এসে হামে এমন মৃত্যু স্বাস্থ্য খাতের জন্য অত্যন্ত লজ্জার বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কিছু বিশেষ পদক্ষেপ নিচ্ছে:

বর্তমানে নিয়মিত কর্মসূচিতে হামের টিকা ৯ ও ১৫ মাস বয়সে দেওয়া হয়। তবে চলমান বিশেষ কর্মসূচিতে এই বয়স কমিয়ে ৬ মাস করা হয়েছে। নিয়মিত কর্মসূচিতেও বয়স কমানো যায় কি না, তা নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা চলছে। কেন সঠিক চিকিৎসার পরও আক্রান্ত শিশুদের বাঁচানো যাচ্ছে না এবং তারা কেন এত গুরুতর জটিলতায় উপনীত হচ্ছে, তা নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক জাহিদ রায়হান জানান, টিকার বয়স ৩ মাস এগিয়ে এনে ৬ মাসে করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তা আরও কমানো হবে কি না, তা আন্তর্জাতিক সংস্থার পরামর্শে ঠিক হবে। তবে স্বাস্থ্য বিভাগের মতে, টিকাদানের মাধ্যমে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ অর্জন করা সম্ভব হলে তা সব বয়সের মানুষকেই সুরক্ষা দেবে।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন