আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ‘মেয়েদের পড়াশোনা করে কী হবে? তাদের প্রতিবাদ বা জনসমাবেশে না গিয়ে ঘরে থাকাই উচিত’—নারীশিক্ষা নিয়ে বিহারের নবনিযুক্ত শিক্ষামন্ত্রী মিথিলেশ তিওয়ারির এমন বিতর্কিত মন্তব্যে ভারতজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে একজন শিক্ষা দপ্তরের অভিভাবকের এমন ‘মধ্যযুগীয়’ দৃষ্টিভঙ্গি সামাজিক মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মিথিলেশ তিওয়ারিকে নারীশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করতে দেখা যায়। সাংবাদিক অধিকার আদায়ের কথা বললে মন্ত্রী পাল্টা দাবি করেন, ‘মোদীজি যখন নারী ক্ষমতায়নের পক্ষে আছেন, তখন মেয়েদের রাস্তায় নামার বা পড়াশোনা করার কী প্রয়োজন!’ তিনি আরও যোগ করেন, অধিকার এমনিতেই পাওয়া যাবে।
ভিডিওটি এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা তীক্ষ্ণ ভাষায় এর সমালোচনা করেছেন। কেউ লিখেছেন, ‘অর্ধেক জনসংখ্যাকে রান্নাঘরে ফেরত পাঠানোই কি আপনার লক্ষ্য?’ অন্য কেউ মন্তব্য করেছেন, ‘২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে এই মানসিকতা নিন্দনীয়।’
মন্ত্রীর এই মন্তব্যে বিহার সরকারও অস্বস্তিতে পড়েছে। বিরোধী দলগুলো দাবি করেছে, যিনি নারীশিক্ষার গুরুত্ব বোঝেন না, তিনি শিক্ষা দপ্তরের দায়িত্ব সামলানোর যোগ্য নন। তারা অবিলম্বে মিথিলেশ তিওয়ারির ইস্তফা দাবি করেছে। বিহারের মতো রাজ্যে যেখানে নারীশিক্ষা প্রসারে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প চলছে, সেখানে খোদ মন্ত্রীর এমন মন্তব্য সরকারের উন্নয়নমূলক ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।