ট্রাম্প-শি বৈঠক: দুই পরাশক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণী সম্মেলন

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ০৭:২৭ অপরাহ্ণ
ট্রাম্প-শি বৈঠক: দুই পরাশক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণী সম্মেলন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বেইজিংয়ের তিয়ানানমেন স্কয়ার ঘিরে এখন নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরকে স্মরণীয় করতে চীন এক জমকালো প্রস্তুতির আভাস দিচ্ছে। ২০১৭ সালের পর ট্রাম্পের এই প্রথম বেইজিং সফর বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিতে পারে।

গত কয়েকমাস ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও, এখন মনোযোগের কেন্দ্রে চীন। ইরান বনাম মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধে পাকিস্তান ও চীন বর্তমানে প্রধান মধ্যস্থতাকারী। বেইজিং ও ইসলামাবাদ একটি পাঁচ-দফা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা দিয়েছে। চীন দ্রুত যুদ্ধের অবসান চায়, কারণ জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও ধীরগতির অর্থনীতি তাদের রপ্তানি বাণিজ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করার বদলে চীন বড় কোনো সুবিধা দাবি করতে পারে।

এদিকে তাইওয়ান ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসন মিশ্র সংকেত দিচ্ছে। একদিকে বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি, অন্যদিকে তাইওয়ানের নিরাপত্তা নিয়ে ট্রাম্পের উদাসীনতা—সব মিলিয়ে বেইজিং বর্তমান বৈঠকে তাইওয়ান প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও কঠোর করার দাবি জানাতে পারে।

২০২৫ সালের চরম বাণিজ্য উত্তেজনার পর গত অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় দুই নেতার সাক্ষাতে বরফ গলতে শুরু করে। বেইজিং সম্মেলনে ট্রাম্পের লক্ষ্য চীনা বাজারে মার্কিন কৃষি পণ্যের রপ্তানি বাড়ানো। বিপরীতে, চীন চাইবে ট্রাম্প যেন নতুন করে শুল্ক আরোপ বা ব্যবসায়িক তদন্ত বন্ধ করেন।

বিশ্ববাণিজ্যের ভবিষ্যৎ, সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি এবং তাইওয়ান উত্তেজনা—সবই এখন আলোচনার টেবিলে। এই সম্মেলনই ঠিক করে দেবে আগামী বছরগুলোতে দুই পরাশক্তির মধ্যে সহযোগিতার হাত বাড়বে নাকি সংঘাতের পথ প্রশস্ত হবে।

মন্তব্য করুন